মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! খামেনেই-এর শেষকৃত্যের মাঝেই ইরান ও চাবাহার বন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

একদিকে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি, অন্যদিকে দক্ষিণ ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ভারতের তৈরি ‘চাবাহার’ বন্দরে রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের মুখোমুখি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হওয়া এই হামলার দায় কোনো দেশ স্বীকার না করলেও, পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কোথায় কোথায় হামলা? ইরানের সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বুশেহর, আহওয়াজ, সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশ এবং চাবাহার বন্দরের সামরিক ও জ্বালানি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও তেহরানের সন্দেহ, এর পেছনে উপসাগরীয় আরব দেশগুলির হাত থাকতে পারে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক তেহরান চুপ করে বসে থাকেনি। বৃহস্পতিবার রাতেই ইরান বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে। এই অঞ্চলের দেশগুলোতে যুদ্ধকালীন সাইরেন বেজে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ তড়িঘড়ি কুয়েত সফর করে জরুরি বৈঠক করেছেন।
নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের আলোচনা, ইজরায়েলের হুঁশিয়ারি এই উত্তেজনার আবহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এরপরই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ ইরানকে ফের ধ্বংস করার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেন, “আমরা ‘ব্লু-হোয়াইট’ (ইজরায়েলের জাতীয় পতাকার রঙ) বা পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজনে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফিরব।”
কেন এই সংঘাত? কূটনীতিবিদদের মতে, এই সংঘাতের মূল কারণ হতে পারে ‘হরমুজ প্রণালী’-র নিয়ন্ত্রণ। এই আন্তর্জাতিক জলপথকে করমুক্ত রাখতে চায় আমেরিকা ও আরব দেশগুলো। অন্যদিকে, খামেনেই-এর মৃত্যুর পর ইরান এই প্রণালীতে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা কর আদায়ের চেষ্টা করছে। এই অর্থনৈতিক স্বার্থের লড়াই এখন মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গোটা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। আমেরিকা ও অন্যান্য শক্তির পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, মধ্যপ্রাচ্য কি ফের কোনো বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কি না।