স্কুলে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু, নতুন সিসিটিভি ফুটেজে চোখ কপালে তুলল পরিবারের দাবি!

রাজস্থানের নীরজা মোদি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ৯ বছর বয়সী আমাইরা কুমার মীনার মৃত্যু রহস্যে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। গত বছরের ১ নভেম্বর স্কুল ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যুর ঘটনাটি ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নতুন সিসিটিভি ফুটেজের দৌলতে। পরিবার এখন সরাসরি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলছে।

সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা গেল?

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন ক্লাসরুমে আমাইরাকে সহপাঠীদের দ্বারা অপমান ও হেনস্থা করা হয়েছিল। নতুন ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার আগে আমাইরা স্বাভাবিক থাকলেও, ক্লাসে একটি ডিজিটাল স্লেট সংক্রান্ত ঘটনার পর তার আচরণ বদলে যায়। অভিযোগ, সে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বারবার ক্লাস টিচারের কাছে গিয়ে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করে, এমনকি হাতজোড় করেও আবেদন জানায়। কিন্তু পরিবারের দাবি, তাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভয়ে মুখ ও মাথা ঢেকে সে একাই ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে যায়। মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়ে স্কুলের কোনো কর্মী তাকে আটকানোর চেষ্টা করেননি।

পুলিশের চার্জশিট ও পরিবারের অসন্তোষ

ঘটনার তদন্তে গত ২ জুলাই রাজস্থান পুলিশ স্কুলের ক্লাস টিচার, প্রিন্সিপাল এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অবহেলার’ (Negligence) অভিযোগে চার্জশিট জমা দিয়েছে। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নন মৃত শিশুর পরিবার। তাদের স্পষ্ট দাবি:

  • শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’র (Abetment to suicide) ধারা যুক্ত করতে হবে।

  • স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কিশোর ন্যায়বিচার আইনের (Juvenile Justice Act) ৭৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা উচিত।

স্কুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সিবিএসই (CBSE)-র গঠিত তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই স্কুলটির কাউন্সেলিং ও অভিযোগের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ‘গুরুতর ব্যর্থতা’র কথা স্বীকার করেছে। এর ফলে স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্বীকৃতিও বাতিল করা হয়েছে। যদিও আদালতে এখনও স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ার প্রক্রিয়াধীন, তবে নতুন ফুটেজ তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করল।

আমাইরার পরিবারের দাবি, স্কুলের অভ্যন্তরীণ এই অবহেলাই একটি ফুটফুটে শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *