যুদ্ধ বাড়লেও কেন নাগালের বাইরে তেলের দাম? বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বার্তা বিশেষজ্ঞদের

ইরান ও আমেরিকার সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধের আবহে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, তেলের দাম কি ফের ১২০ ডলার প্রতি ব্যারেলের সেই পুরোনো উচ্চতায় পৌঁছাবে? তবে বিশেষজ্ঞরা এই আতঙ্ককে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, বাজার ইতিমধ্যে যুদ্ধের প্রভাব ‘হজম’ করে ফেলেছে, যেমনটা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ঘটেছিল।

বাজার বিশ্লেষক অজয় কেডিয়া জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০-৮৫ ডলারের গণ্ডি পেরোনোর সম্ভাবনা কম। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, ওপেক প্লাস (OPEC+) গোষ্ঠী আগস্ট মাস থেকে দৈনিক ১.৮৮ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বাজারে জোগানের ঘাটতি মেটাবে। জুনে ওপেকের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, কৌশলগত রিজার্ভ (SPR) পূর্ণ করার প্রক্রিয়া এবং আমেরিকায় আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা রক্ষণাবেক্ষণজনিত প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দামকে একটি স্থিতিশীল স্তরে ধরে রাখবে।

বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৭-৭৯ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস, অতিরিক্ত জোগান এবং চাহিদার ভারসাম্য বজায় থাকায় তেলের দাম ৭০ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ, যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়লেও সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের আঘাত আসার মতো পরিস্থিতি এখনই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতার এই প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *