হৃদয়বিদারক! হোস্টেলে ঘুমের মধ্যেই ছোবল বিষধর সাপের, প্রাণ গেল ১৩ বছরের ছাত্রীর

ঝাড়খণ্ডের লোহারদাগা জেলায় এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হলো রোচো মহুয়াটোলির সানওয়াসিরা উচ্চ মাধ্যমিক আবাসিক বিদ্যালয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে ছাত্রীনিবাসে বিষধর সাপের কামড়ে ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও তিনজন ছাত্রী।

ঠিক কী ঘটেছিল?
মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখন রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ হোস্টেলের ঘরে ঢুকে পড়ে একটি বিষধর কমন ক্রেইট সাপ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাপটি ঘুমন্ত ১৩ বছর বয়সী বর্ষা ওরাওঁকে দংশন করে। বর্ষার চিৎকারে তার সহপাঠীরা জেগে উঠলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সাপটি এরপর একে একে আনিশা ওরাওঁ, মনীষা কুমারী এবং ফুলমানিয়া ওরাওঁকেও কামড়ায়।

নিউরোটক্সিক বিষের মরণকামড়:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকায় পাওয়া ‘কমন ক্রেইট’ অত্যন্ত ভয়ংকর। এদের বিষ নিউরোটক্সিক প্রকৃতির, যা কিং কোবরার বিষের চেয়েও প্রায় চার গুণ বেশি মারাত্মক। এই সাপের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তি ঘুমন্ত অবস্থাতেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন এবং ফুসফুস অকেজো হয়ে দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন।

হাসপাতালের চিত্র:
ঘটনার পরপরই স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীরা অচৈতন্য অবস্থায় চার ছাত্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহারদাগা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বর্ষা ওরাওঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর অসুস্থ মনীষা কুমারীকে সদর হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফুলমানিয়া ওরাওঁ এবং আনিশা কুমারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (RIMS)-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ:
এই ঘটনায় শোকের পাশাপাশি হোস্টেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। ছাত্রাবাসের ভেতরে এমন বিষধর সাপ ঢোকার ঘটনা চরম অবহেলার পরিচয় বলে অভিযোগ তাদের। কুডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজিত কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃত ছাত্রীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

এই মুহূর্তে শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সামলাতে ও সঠিক বিচারের দাবিতে হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করেছেন স্থানীয় সমাজকর্মীরা। হোস্টেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *