স্বামীকে খুঁজতে বেরিয়ে নিখোঁজ, সকালে মিলল আদিবাসী মহিলার মৃতদেহ! পূর্ব বর্ধমানে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

স্বামীকে খুঁজতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না এক আদিবাসী মহিলার। সোমবার থেকে নিখোঁজ থাকা ওই মহিলার মৃতদেহ মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার হয় পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানা এলাকার একটি জমির ধার থেকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:
মৃতার স্বামীর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন বিকেলে তিনি, তাঁর স্ত্রী এবং অভিযুক্ত আজিজুল শেখ একসঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন। এরপর কোনো এক সময় স্বামী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ঘুম ভেঙে স্বামীকে দেখতে না পেয়েই স্ত্রী তাঁকে খুঁজতে বের হন। এরপর দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে আসেননি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির অদূরেই একটি জমিতে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মৃতের পরিবারের দাবি, মহিলার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা থেকে খুনের বিষয়টি স্পষ্ট।

পুলিশের পদক্ষেপ:
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) বিভিন্ন কঠোর ধারায়—১০৩(১), ২৩৮ ও ৭০(১) নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে দেওয়ানদিঘি থানা (কেস নম্বর ১৪২/২০২৬)। পুলিশ ইতিমধ্যে আজিজুল শেখ এবং ভদাই শেখ নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার তাঁদের বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্তের অগ্রগতি:
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাবে। মৃতের ভাই অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের প্রতিটি যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *