ভারত-অস্ট্রেলিয়া ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক চুক্তি! মেলবোর্নে নতুন উচ্চতায় মোদী-অ্যালবানিজ সম্পর্ক

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত বন্ধুত্ব আজ এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল। মেলবোর্নে আয়োজিত ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী—নরেন্দ্র মোদী ও অ্যান্থনি অ্যালবানিজ—যৌথভাবে একগুচ্ছ যুগান্তকারী চুক্তির ঘোষণা করেছেন। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে এই বৈঠকটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূল যে বিষয়গুলিতে নজর দিলেন দুই রাষ্ট্রনেতা:
ঐতিহাসিক ইউরেনিয়াম চুক্তি: দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ইউরেনিয়াম সরবরাহ সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। ভারতের ক্রমবর্ধমান বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের চাহিদা মেটাতে এই চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৪ সালে নেওয়া উদ্যোগ আজ পূর্ণতা পেল।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তার স্বার্থে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ থেকে শুরু করে সামরিক মহড়া, আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একে অপরের দেশে সামরিক বিমানের মোতায়েন—প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রতিটি ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার সুরক্ষা: সন্ত্রাসবাদ দমনে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, অনলাইন উগ্রবাদ প্রতিরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় যৌথ লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একে অপরকে দ্রুত সহায়তার লক্ষ্যে ‘হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ডিজাস্টার রিলিফ’ (HADR) বিষয়ক যৌথ মহড়া এবং সমন্বিত উদ্ধারকাজ পরিচালনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কী বললেন দুই প্রধানমন্ত্রী?
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, “প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং অত্যাবশ্যকীয় খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সম্পর্ককে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছি।” অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী অ্যালবানিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, এই অংশীদারিত্ব শুধুমাত্র দুই দেশের নয়, বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
এক মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের লক্ষ্য নিয়ে চলা এই বৈঠকের পর ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সামরিক এবং কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা হলো বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের একাংশ।