ইউ-টার্ন ট্রাম্প! নাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে এখন কেন বললেন, ‘আমরা আপনাদের সাথেই আছি’?

কয়েক মাস আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছিল নাটো (NATO) থেকে আমেরিকাকে বের করে নেওয়ার হুমকি। ইউরোপীয় মিত্রদের ক্রমাগত সমালোচনা করা ট্রাম্পের সুর এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত নাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই নতুন ‘বন্ধুত্বসুলভ’ আচরণ বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কেন এই ভোলবদল? আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত বন্ধ ঘরের বৈঠকে ট্রাম্পকে কার্যত নমনীয় অবস্থানে দেখা গেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “আমরা আপনাদের সাথে থাকতে চাই।” রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প শুধু প্রতিশ্রুতিই দেননি, বরং নাটো সদস্য দেশগুলোতে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টিকেও সবুজ সংকেত দিয়েছেন। অস্ত্র ব্যবহারের শর্ত বা বিধিনিষেধ নিয়েও তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি উদার মনোভাব দেখিয়েছেন।

বৈঠকের প্রধান দিকগুলো:

  • শান্তির বার্তা: ট্রাম্প এদিন স্পেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় কিংবা ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত পুরোনো বিতর্কের ধারেকাছেও যাননি। ग्रीनल্যান্ডের মতো উত্তেজনাকর ইস্যুগুলোও ছিল আলোচনার বাইরে।

  • একতা ও সম্প্রীতি: বৈঠকের শেষে ট্রাম্প একে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, সেখানে প্রচুর ভালোবাসা ও একতা দেখা গেছে।

  • নিরাপত্তার শপথ: যৌথ ঘোষণাপত্রে ট্রাম্প ও অন্যান্য নেতারা ‘আর্টিকেল ৫’-এর অধীনে সম্মিলিত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।

সামরিক ও অর্থনৈতিক মোড় ট্রাম্পের এই সুর নরম হওয়ার পেছনে বড় কারণ হতে পারে সদস্য দেশগুলোর নতুন অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এই সম্মেলনে ইউরোপীয় মিত্ররা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনায় ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ এবং ২০২৬ সালে ইউক্রেনের জন্য ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। নাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের সমর্থন করায়, ভূ-রাজনীতির মোড় এখন অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলেই ঘুরছে।

ট্রাম্পের এই ভোলবদল কি সত্যিই ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে, নাকি এটি নিছকই একটি সাময়িক কৌশলগত সমঝোতা—তা এখন দেখার বিষয়। তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্ব শেয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *