সন্ত্রাসের প্রতি অন্ধ মোহ! বুরহান ওয়ানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের?

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) যখন সাধারণ মানুষ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে এবং তীব্র বিক্ষোভ চলছে, ঠিক সেই সময়েই সন্ত্রাসীদের মহিমান্বিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP)। নিহত হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে করাচিতে আয়োজিত এক জনসভা পাকিস্তান সরকারের ভারত-বিরোধী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
কেন এই জনসভা? মঙ্গলবার করাচির আর্টস কাউন্সিলে এই বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিটি মূলত ‘অল জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর হুরিয়াত কনফারেন্স’-এর ডাকে আয়োজিত হলেও, এতে সরাসরি সহযোগিতা করছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি। দলের পোস্টারে সাধারণ মানুষকে দলে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক ইন্ধন পাকিস্তান পিপলস পার্টির জেলা সভাপতি লিয়াকত আলীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ৮ই জুলাই তারা এই সমাবেশ করেন। এ বছরও করাচির মাটিতে পাকিস্তান ও কাশ্মীরের পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বুরহান ওয়ানীর মতো একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে ‘শহীদ’ হিসেবে তুলে ধরার মাধ্যমে ভারতবিরোধী বয়ানকে আরও উসকে দিতে চাইছে পিপিপি—এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
কেন পাকিস্তানের এই দ্বিমুখী নীতি?
-
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা থেকে নজর ঘোরানো: পিওকে-তে বর্তমানে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAC)-এর নেতৃত্বে সেনাবিরোধী বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। সেই অসন্তোষ থেকে জনগণের নজর ঘোরাতেই সরকার ও পিপিপি কৌশলে এমন ইস্যু সামনে আনছে।
-
সন্ত্রাসবাদকে লালন: আন্তর্জাতিক চাপে বিভিন্ন সময় পাকিস্তান সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, ঘরের মাটিতেই সন্ত্রাসীদের প্রতি তাদের এই আসক্তি স্পষ্ট।
-
ভূ-রাজনৈতিক উসকানি: ভারতের কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে অশান্তি ছড়াতে বুরহান ওয়ানীর নাম ব্যবহার করা পাকিস্তানের একটি পুরোনো কৌশল।
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিজি (পুলিশ) এস.পি. বৈদ-সহ একাধিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, পাকিস্তান সরকার নিজের দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণার রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে। এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড যে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে, তা বলাই বাহুল্য।