‘আদালত কি মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঠিক করবে?’ কারুরকাণ্ডে ডিএমকে-কে তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের

তামিলনাড়ুর কারুরকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল বিরোধী দল ডিএমকে (DMK)। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের আসন্ন কারুর সফর ও নিহতদের পরিবারকে সরকারি সাহায্য দেওয়ার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ডিএমকে সুপ্রিম কোর্টে যে আবেদন জানিয়েছিল, তা কেবল খারিজই হলো না, বরং শীর্ষ আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে আবেদন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলো দলটি।
আদালত কি মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ন্ত্রণ করবে? বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ ডিএমকে-র আইনজীবীর উদ্দেশ্যে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়, “আপনারা কি চান দেশের সর্বোচ্চ আদালত এখন মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি ঠিক করে দিক বা তা নিয়ন্ত্রণ করুক? আদালত কি রাজনৈতিক লড়াইয়ের জায়গা?” আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যে মামলায় সিবিআই তদন্ত চলছে, সেখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর এই ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
কেন এই আবেদন করেছিল ডিএমকে? গত বছর কারুরে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের জনসভায় পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। আগামী ১০ জুলাই সেই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে সরকারি চাকরি ও আর্থিক সাহায্য তুলে দিতে কারুরে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। ডিএমকে-র অভিযোগ ছিল, এই সফর ও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সিবিআই তদন্ত ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারে।
আদালতে চরম অস্বস্তি: ডিএমকে যখন দাবি করে যে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এই ঘটনায় অভিযুক্ত, তখন আদালত ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য সংশোধন করে দেন। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, মূল এফআইআর-এ কোথাও মুখ্যমন্ত্রীর নাম নেই। ভুল তথ্য উপস্থাপনের ফলে ডিএমকে-র কৌঁসুলিরা আদালতে চরম অস্বস্তিতে পড়েন।
বিচারপতির বেঞ্চ ডিএমকে-কে সতর্ক করে দিয়ে বলে, এই আবেদন জোর করে টিকিয়ে রাখলে দলের জন্য তা মোটেও ভালো ফল বয়ে আনবে না। আদালতের এই কড়া বার্তার পর আইনি জটিলতা এড়াতে ডিএমকে তাদের আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। এর ফলে মামলাটি এখানেই শেষ হয়ে যায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই কঠোর অবস্থান তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজনীতিতে ডিএমকে-র কৌশলকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।