‘সত্যিকারের নেতার মতো কাজ করেছেন!’ ইস্তফা দিতেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বড় বার্তা মোদী মন্ত্রীর

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং দেশজুড়ে চলা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রবল চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর এই হাই-ভোল্টেজ পদত্যাগের পরেই জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে যখন বিরোধীরা একে ছাত্র সমাজের ঐতিহাসিক বিজয় বলে দাবি করছে, ঠিক তখনই বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে এবং তাঁর কাজের উচ্চ প্রশংসা করে প্রকাশ্যে বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
কী বার্তা দিলেন কিরেন রিজিজু?
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই মোদী মন্ত্রিসভার অন্যতম হেভিওয়েট মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সামাজিক মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে রিজিজু লিখেছেন—
“আপনি একজন সত্যিকারের নেতার মতো সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত বছরগুলিতে দেশের প্রতি আপনার এই অবিরাম জনসেবা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই।” মোদী মন্ত্রীর এই প্রকাশ্য বার্তা বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চার জন্ম দিয়েছে।
পদত্যাগপত্রে ঠিক কী লিখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান?
নিজের ইস্তফার নেপথ্য কারণ স্পষ্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি লিখেছেন—
-
“গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন সত্যি ভারাক্রান্ত। আমি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং তাদের সমস্ত ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”
-
তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত NEET-UG পরীক্ষায় যে সমস্ত অনিয়ম সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সরকার প্রথম দিন থেকেই এই বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং পরীক্ষা বাতিল করে নতুন দিন ঘোষণা করে। পাশাপাশি, আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক (CBT) পদ্ধতিতে নেওয়ার বড় সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নিজের নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে তিনি লেখেন যে, প্রথম দিন থেকেই তিনি সমস্ত ঘটনার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন এবং সংকট থেকে পালিয়ে যাননি। তাঁর প্রধান লক্ষ্যই ছিল, পরীক্ষা মাফিয়াদের কবলে পড়ে যাতে দেশের কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চিরতরে নষ্ট না হয়ে যায়।
পদত্যাগের আসল কারণ ও সিজেপি আন্দোলন
দেশকে রক্ষা করার তাগিদেই যে তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা স্পষ্ট করে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন— দিল্লির যন্তর-মন্তর সহ দেশের বর্তমান আন্দোলনের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাতে কোনো ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ ফায়দা তুলতে না পারে এবং দেশের ঐক্য ও শান্তি অটুট থাকে, সেই কথা মাথায় রেখেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার খবর চাউর হতেই দিল্লির যন্তর-মন্তরে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ এই পদক্ষেপে চরম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে একে “গণতন্ত্রের চূড়ান্ত বিজয়” বলে অভিহিত করেছেন।