বিয়ের ৪ মাস আগেই স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে! কেতন আগরওয়াল খুনে নয়া মোড়, ফেঁসে যাচ্ছেন সিয়া?

পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশি জেরায় এবার সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য—কেতনের সঙ্গে বাগদান সারার চার মাস আগেই প্রেমিক চেতন চৌধুরিকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল। পুলিশের দাবি, এই গোপন বিয়ের তথ্যই কেতন খুনের আসল মোটিভ বা কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কি ছিল সিয়ার গোপন ব্লুপ্রিন্ট? ২০ বছর বয়সী সিয়া ও ২৫ বছর বয়সী কেতনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল এই বছরের নভেম্বর মাসে। পরিবারের চাপে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বাগদান সম্পন্ন হয়। কিন্তু তদন্তকারীদের ধারণা, সিয়া মনেপ্রাণে এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। জানা গেছে, বাগদানের বেশ কয়েক মাস আগেই স্থানীয় রেজিস্ট্রার অফিসে ‘স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট’ বা বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে প্রেমিক চেতনের সঙ্গে আইনি বিয়ে সেরে ফেলেছিলেন সিয়া।

সাক্ষী হিসেবে বন্ধুরা, তদন্তে পুলিশ: এই গোপন বিয়ের খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে পুনে গ্রামীণ পুলিশ। বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে বিয়ের সময় সাক্ষী হিসেবে সিয়ার কলেজের দুই বন্ধুর স্বাক্ষর ছিল বলে খবর। তদন্তকারীরা এখন সেই বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনেছেন। পাশাপাশি, সিয়ার একটি ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ডিলিট করা ছবি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। পুলিশের সন্দেহ, ওই ছবিগুলিতে সিয়া ও চেতনের মালাবদলের দৃশ্য রয়েছে।

পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ: পুলিশ এখন এই গোপন বিয়ের নথি বা শংসাপত্রটি খোঁজার চেষ্টা করছে। যদি সেই নথি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে ফেব্রুয়ারিতে কেতনের সঙ্গে হওয়া বাগদানের বৈধতা নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হবে। তদন্তকারীদের মতে, বিয়ের হাত থেকে মুক্তি পেতেই যে চেতনকে সঙ্গী করে সিয়া এই নৃশংস খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন, তা এখন প্রায় স্পষ্ট। লোহগড় দুর্গের পাহাড়ের খাদে ঠেলে ফেলে কেতনকে খুন করার ঘটনায় এই গোপন বিয়ে কি অন্যতম মাস্টারপ্ল্যান ছিল? এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

এই ঘটনায় নতুন মোড় আসার পর সিয়ার বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই পরবর্তী চার্জশিট পেশ করতে চলেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *