বিবাদের জেরে স্বামীকে খাটে বেঁধে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে খুনের চেষ্টা, অভিযুক্ত স্ত্রী

ঘরের ভেতরে স্বামী-স্ত্রীর সাধারণ বিবাদ যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তার সাক্ষী রইল উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলা। অং থানার পারসাদেপুর গ্রামে নিজের স্বামীকেই লাঠি দিয়ে মারধর, খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা এবং শেষে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কানপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তি।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সঞ্জীব তিওয়ারি পেশায় একজন মিষ্টান্ন বিক্রেতা। ঘটনার দিন কাজ থেকে বাড়ি ফিরতেই স্ত্রী রন্নো দেবীর সঙ্গে তার বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যে সেই বিবাদ সহিংস রূপ নেয়। রন্নো দেবী লাঠি দিয়ে সঞ্জীবের মাথায় আঘাত করেন। এরপর স্বামীকে খাটের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, এরপরেই সঞ্জীবের শরীরের সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে তাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
চিৎকারে প্রাণ বাঁচল স্বামীর
সঞ্জীবের আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, সঞ্জীবকে খাটের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তার শরীরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং মুমূর্ষু অবস্থায় সঞ্জীবকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কানপুর রেফার করেছেন।
পুলিশি তদন্ত
খবর পেয়েই অং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার অভিমন্যু মাংলিক জানিয়েছেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মালওয়ান এলাকায় স্ত্রীর দেওয়া আগুনে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই অং থানার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কি কেবলই পারিবারিক বিবাদ, নাকি অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।