বিয়ের পর EPF নমিনেশন আপডেট করেছেন? না করলে বড় বিপদে পড়তে পারেন!

বিবাহ প্রতিটি মানুষের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কিন্তু আপনি কি জানেন, বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর আপনার এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) অ্যাকাউন্টে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তন আসে? ইপিএফ স্কিম ২০২৬ অনুযায়ী, বিয়ের পর আপনার পূর্বের করা যেকোনো নমিনেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর বা অবৈধ হয়ে যায়। তাই নিজের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে নমিনেশন জমা দেওয়া এখন বাধ্যতামূলক।
কেন নতুন নমিনেশন জরুরি?
ইপিএফ স্কিম ২০২৬ অনুযায়ী, বিয়ের পর নমিনেশনের বিবরণ হালনাগাদ না করলে ভবিষ্যতে তহবিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। অনেক গ্রাহকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে, বিয়ের পর জীবনসঙ্গীকে নমিনি করা বাধ্যতামূলক। তবে বর্তমান নিয়মে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি আপনার পছন্দমতো পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যকে নমিনি হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
কাদের নমিনি করা যাবে?
সামাজিক সুরক্ষা বিধি ২০২০ অনুযায়ী, পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরাই নমিনেশন পাওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে:
জীবনসঙ্গী।
নাবালক সন্তান (বৈধ বা দত্তক)।
২১ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ভরশীল সন্তান।
অবিবাহিত কন্যা।
নির্ভরশীল পিতামাতা (মহিলা কর্মচারীর ক্ষেত্রে শ্বশুর-শাশুড়িও অন্তর্ভুক্ত)।
পিতামাতা জীবিত না থাকলে নির্ভরশীল নাবালক ভাইবোন।
যাদের পরিবার নেই তারা কী করবেন?
যাদের পরিবার নেই, তারা আপাতত নিজেদের পছন্দের যেকোনো ব্যক্তিকে নমিনি করতে পারেন। তবে বিয়ের পর সেই নমিনেশন বাতিল করে পুনরায় পরিবারের যোগ্য সদস্যকে নমিনি হিসেবে যুক্ত করতে হবে।
নমিনেশন আপডেট কেন করবেন?
দুর্ভাগ্যবশত কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে, তাঁর জমানো টাকা কে পাবেন, তা এই নমিনেশনের ওপরই নির্ভর করে। আপনি যদি একাধিক নমিনি রাখেন, তবে তহবিলের কত শতাংশ কে পাবেন, তাও নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন থাকলে দাবি নিষ্পত্তির সময় কোনো বিলম্ব বা পারিবারিক বিবাদের ঝুঁকি থাকে না।
তাই, দেরি না করে আজই আপনার ইপিএফ অ্যাকাউন্টে নমিনেশন যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে দ্রুত তা হালনাগাদ করে নিন। আপনার ছোট একটি পদক্ষেপই নিশ্চিত করবে আপনার পরিবারের ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা।