পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো রিসর্ট, কড়া অবস্থান রাজ্য সরকারের

গত এক দশকে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ডুয়ার্স জুড়ে গড়ে ওঠা ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি রিসর্টগুলির বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। রিসর্টগুলির বৈধ নথি ও আয়ের উৎস খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। নথিতে সামান্যতম অসঙ্গতি থাকলেই এবার রিসর্ট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই মালবাজার মহকুমা প্রশাসন মেটেলি থানার গোয়ালডাঙা গ্রামে কুর্তি নদীর ধারের একটি বেআইনি রিসর্টে নোটিস ঝুলিয়ে দিয়েছে। খাসজমিতে তৈরি ওই রিসর্টকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহকুমাশাসক উৎকর্ষ খান্ডাল জানিয়েছেন, স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ওদলাবাড়ির একটি রিসর্টের জমি ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতকে চিঠি দিয়েছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা।

রাজনৈতিক চাপানউতোর সূত্রের খবর, বর্তমানে ডুয়ার্সে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০০টি রিসর্ট রয়েছে। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে সমস্ত নিয়ম ভেঙে মন্ত্রী-নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে এই রিসর্টগুলি গড়ে তুলেছেন। যদিও বিজেপি সরকার এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছে।

কর্মীদের উদ্বেগ ও রিসর্ট মালিকদের অবস্থান এই অভিযানের ফলে ডুয়ার্সের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রিসর্টগুলিতে কর্মরত কর্মীরা রুটি-রুজির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অন্যদিকে, লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পার্থ রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবৈধ বা নিয়ম বহির্ভূত কোনো নির্মাণের পাশে তাঁদের সংগঠন নেই। তিনি আরও জানান, অনেক রিসর্টই পাট্টা জমিতে তৈরি, যেগুলিকে বাণিজ্যিক রূপান্তর করার জন্য নবান্নে আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সরকারের বিবেচনাধীন।

পুলিশের নজরদারি ও ভাঙনের আতঙ্ক পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে মূর্তি নদীতে ব্যাপক ভাঙন এবং নদীর চরে অবৈধ রিসর্ট তৈরির অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডুয়ার্সের রিসর্ট ও হোম স্টে মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারা এই হোম স্টেগুলি পরিচালনা করছে, তার তথ্য সংগ্রহে খোদ পুলিশ প্রশাসনও ময়দানে নেমে পড়েছে।

এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই স্বচ্ছতা অভিযানের জেরে কতগুলি রিসর্ট বন্ধ হয় এবং পর্যটন নির্ভর এই এলাকার অর্থনীতি কীভাবে এই সংকটের মোকাবিলা করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *