জুলাই মাসেই পড়েছে বিপত্তারিণী পুজোর দিন, জেনেনিন কবে-কখন ব্রত পালন করবেন?

হিন্দু ধর্মে দেবী বিপত্তারিণীকে সংকটনাশিনী হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তিভরে এই দেবীর আরাধনা করলে পরিবার থেকে যেকোনো বিপদ দূরীভূত হয়। আষাঢ় মাসের রথযাত্রা ও উল্টোরথের মধ্যবর্তী সময়ে যে শনিবার ও মঙ্গলবার পড়ে, সেই দিনগুলিতেই এই ব্রত পালন করা হয়।

২০২৬ সালে বিপত্তারিণী পুজোর দিনক্ষণ: এই বছর ভক্তরা দু’টি দিনে বিপত্তারিণী ব্রত পালন করতে পারবেন:

  • ১৮ জুলাই, শনিবার (১ শ্রাবণ)

  • ২১ জুলাই, মঙ্গলবার (৪ শ্রাবণ)

পুজোর উপচার ও নিয়ম: বিপত্তারিণী পুজোয় ‘১৩’ সংখ্যাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে:

  • ঘট, আম্রপল্লব, ডাব।

  • ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো (সাথে ১৩টি দূর্বা)।

  • ১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি।

ব্রত পালনের বিধি: ব্রতের আগের দিন নিরামিষ আহার করা বিধেয়। পুজো শেষে ১৩টি লুচি ও ১৩ রকমের ফল প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পুজোর শেষে ঠাকুরের পায়ে নিবেদিত ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো হাতে বাঁধার নিয়ম— যা মহিলাদের বাম হাতে এবং পুরুষদের ডান হাতে পরতে হয়। এই সুতো অন্তত তিনদিন হাতে রাখা আবশ্যক।

পুজোর দিন যা বর্জনীয় (বিধি-নিষেধ): দেবী বিপত্তারিণীর কৃপা ও আশীর্বাদ লাভের জন্য কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়:

  • খাদ্যাভ্যাস: পুজোর দিন চাল বা গমের তৈরি খাবার খাওয়া শাস্ত্রসম্মত নয়।

  • সতর্কতা: পুজোর সময় কথা বলা নিষেধ, কারণ এতে দেবীর রোষানলের সম্ভাবনা থাকে। অপরিচ্ছন্ন স্থানে পুজো করা যাবে না।

  • লেনদেন: পরিবারের বাইরে কাউকে এই দিন টাকা দেওয়া বা ধার করা থেকে বিরত থাকুন। বিশ্বাস করা হয়, এদিন প্রদত্ত অর্থ আর ফেরত আসে না।

  • চিনি বর্জন: জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিন কাউকে চিনি দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। চিনি শুক্র ও চন্দ্রের কারক, আর এদিন চিনি দিলে শুক্র দুর্বল হয়ে সংসারে অশান্তি ও আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে।

  • সম্মান: পরিবারের যেকোনো সদস্যের মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং যেকোনো নারীর প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

কেন পালন করবেন এই ব্রত? পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মা দুর্গার ১০৮ অবতারের অন্যতম এই দেবীর পুজো করলে সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। ব্যবসায়িক উন্নতি এবং পারিবারিক অসুস্থতা দূর করার জন্য ভক্তরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ব্রত পালন করে আসছেন। নিষ্ঠা ও নিয়ম মেনে করা এই পুজোই ভক্তদের সকল বিপদ থেকে আগলে রাখে বলে মনে করা হয়।

Editor001
  • Editor001

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *