মহাকালের নাম ব্যবহার করে ৪ কোটির প্রতারণা! বন্যপ্রাণীর দেহাবশেষ বিক্রির অভিযোগে দিল্লি থেকে গ্রেফতারের পথে নারী

বাবা মহাকালের পবিত্র নাম এবং উজ্জয়িন শহরের পরিচিতি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অভিনব ও ভয়াবহ প্রতারণার পর্দা ফাঁস করল বনদফতর। দিল্লির এক বাসিন্দা নিজেকে উজ্জয়িনের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ইনস্টাগ্রামে বন্যপ্রাণীর দেহাবশেষ বিক্রি এবং তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নামে কয়েক কোটি টাকার জালিয়াতি করছিল।
প্রতারণার কৌশল
অভিযুক্ত ওই নারী ইনস্টাগ্রামে নিয়মিতভাবে মহাকালের ভস্ম আরতি ও উজ্জয়িনের মন্দিরের ছবি বা ভিডিও পোস্ট করত। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করত যে সে সত্যিই উজ্জয়িনের বাসিন্দা। এরপর সে বিবাহ বিচ্ছেদ, আর্থিক সংকট, চাকরি পাওয়া কিংবা ‘সম্মোহন’-এর মতো ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের নামে বন্যপ্রাণীর দাঁত, হাড়, নখ, শিং ও থাবা বিক্রি শুরু করে। দাবি করা হতো, এসব জিনিস ব্যবহার করলে রাতারাতি আর্থিক সমৃদ্ধি আসবে।
বনদফতরের জালে প্রতারক
অভিযোগ পাওয়ার পর উজ্জয়িন বনদফতর বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ডিএফও অনুরাগ তিওয়ারি জানান, তাদের টিম প্রথমে গ্রাহক সেজে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। কথোপকথন ও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি (KYC) খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নারীটি আসলে দিল্লি থেকে এই পুরো র্যাকেট চালাচ্ছিল। উজ্জয়িন বা মহাকালের সাথে তার কোনো সম্পর্কই নেই।
৪ কোটির লেনদেন, তদন্তে সংস্থা
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ছয় মাসে ওই নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ছোট ছোট কিস্তিতে আসা এই বিপুল অর্থ আসলে কোন কোন অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে এই দেহাবশেষগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হতো, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বনদফতর জানিয়েছে, তদন্তের সমস্ত নথি ও তথ্যপ্রমাণ ভোপালের ‘ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো’ (WCCB)-তে পাঠানো হয়েছে। এখন মামলাটি দিল্লির সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। সেখানেই বিস্তারিত তদন্ত হবে এবং এই অপরাধী চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা খুঁজে বের করা হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে এই ধরনের জালিয়াতি সাধারণ মানুষকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।