ইএমআই (EMI) বাউন্স করলেই কি ক্রেডিট স্কোর শেষ? সত্যিটা জেনে ভয় দূর করুন!

মাসের শেষে পকেটে টান, অথচ ঘাড়ে তখন লোন বা ইএমআই (EMI)-এর বোঝা। অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ইএমআই বাউন্স করার ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেই অনেকের মনে দানা বাঁধে এক ভয়— এই বুঝি ক্রেডিট স্কোর (CIBIL Score) তলানিতে ঠেকল! ভবিষ্যতে লোন পাওয়ার পথ কি তবে বন্ধ হয়ে গেল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি ততটা ভয়ের নয়, যতটা আমরা ভাবি। জেনে নিন ইএমআই মিস করলে আসলে কী হয়।

এক দিন দেরি হলেই কি স্কোর নষ্ট? আশ্বাসের কথা হলো, মাত্র এক দিন কিস্তি দিতে দেরি হলে আপনার ক্রেডিট স্কোরে রাতারাতি কোনো ধস নামে না। ক্রেডিট স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৯০০-এর মধ্যে পরিমাপ করা হয়, যেখানে ৭৫০-এর উপরে স্কোরকে আদর্শ বলে মনে করা হয়। সাময়িক বিলম্বের চেয়ে বকেয়া টাকা আপনি কত দ্রুত মিটিয়ে ফেলছেন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাঙ্ক আসলে কী করে? ইএমআই বাউন্স করলে সাধারণত দু’টি বিষয় ঘটে:

  • পেনাল্টি বা চার্জ: ব্যাঙ্ক বা ঋণপ্রদানকারী সংস্থা আপনার ওপর লেট পেমেন্ট ফি এবং ইএমআই বাউন্স চার্জ বসাতে পারে।

  • অ্যালার্ট: ব্যাঙ্ক আপনাকে এসএমএস, ইমেল বা ফোনের মাধ্যমে বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য রিমাইন্ডার পাঠাতে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় একে কোনো বড় ধরনের ‘ডিফল্ট’ হিসেবে গণ্য করা হয় না।

গ্রেস পিরিয়ডকে কাজে লাগান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অধিকাংশ ব্যাঙ্ক ক্রেডিট বুরোকে রিপোর্ট করার আগে গ্রাহকদের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা মোহলত দেয়। এটি সাধারণত ৩ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিলে ক্রেডিট স্কোরে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত দিনের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট হারে জরিমানা দিতে হতে পারে।

ক্রেডিট স্কোর ভালো রাখার কৌশল:

  • তৎপর হোন: ইএমআই বাউন্স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। ব্যাঙ্কের রিপোর্টিং পিরিয়ডের আগে টাকা জমা দেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

  • আগাম যোগাযোগ: যদি বুঝতে পারেন ভবিষ্যতে পেমেন্ট করতে দেরি হতে পারে, তবে আগেভাগেই ব্যাঙ্কের সাথে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি জানান।

  • ভবিষ্যতের শৃঙ্খলাই ভরসা: একবার ভুল হয়ে গেলেও আতঙ্কিত হবেন না। পরবর্তী কিস্তিগুলো সময়মতো পরিশোধ করুন। নিয়মিত পেমেন্ট করলে ব্যাঙ্কের কাছে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে এবং ক্রেডিট স্কোর ধীরে ধীরে উন্নতি করবে।

সারকথা: একটি কিস্তি মিস হওয়া মানেই ক্রেডিট স্কোর চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধই আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *