৩ হাজার টাকা এল না কেন? অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত বহু, তোপের মুখে পুরসভা

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলছে জোর চর্চা। একদিকে ১ কোটিরও বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পৌঁছে যাওয়ায় উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে টাকা না পাওয়া উপভোক্তাদের ক্ষোভে উত্তাল রাজ্যের একাধিক পৌরসভা। টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন ক্ষুব্ধ মহিলারা।
শান্তিপুরে চরম বিশৃঙ্খলা
শান্তিপুর পৌরসভায় এদিন সকাল থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকেই অধিকাংশ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও, হাজার হাজার মানুষ এখনও বঞ্চিত। পৌর আধিকারিকদের গাফিলতিতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। দীর্ঘক্ষণ চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ এবং ভাইস চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামাণিককে ঘেরাও করে চলে তুমুল বিক্ষোভ। শেষে শান্তিপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই বিষয়ে পুর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জলপাইগুড়িতেও একই ছবি
শান্তিপুরের পাশাপাশি জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ি পৌরসভাতেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। পৌরসভা সূত্রে খবর, জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে প্রায় ৩৭০০ জন মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছিলেন। অথচ মাত্র ১১০০ জন টাকা পেয়েছেন। কেন এত বড় সংখ্যক আবেদনকারী বঞ্চিত হলেন? এর উত্তরে পৌরসভা জানিয়েছে, কর্মীসংকটের কারণে এখনও অনেক আবেদনপত্র অনলাইনে আপলোড করাই সম্ভব হয়নি। হলদিবাড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রয়োজনে কর্মী বাড়িয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
রাজনৈতিক আঙিনায় শোরগোল
অন্নপূর্ণা যোজনার এই টাকা বন্টন নিয়ে তৈরি হওয়া এই চাপানউতোর এখন বড় রাজনৈতিক আকার নিয়েছে। বিরোধীরা একে সরকারি ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, প্রযুক্তিগত সমস্যা বা কর্মীস্বল্পতার কারণেই সাময়িক এই বিলম্ব।
এখন দেখার বিষয়, এই বিশাল সংখ্যক বঞ্চনার মুখে দাঁড়িয়ে প্রশাসন কীভাবে দ্রুত টাকা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়।