‘বাঙালি বেইমানকে সহ্য করে না’, ঋতব্রতকে তীব্র আক্রমণ কল্যাণের, কমিশনের বৈঠকে উত্তপ্ত রাজনীতি

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবিরের বৈঠকের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। ঋতব্রত শিবিরের দাবি এবং দলীয় প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই এবার তাঁদেরকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রতকে ‘গদ্দার’ ও ‘লোভী’ বলে অভিহিত করে তিনি দলের অন্দরে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন।

‘মা-কে চিনতে চাইছে না!’
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত শিবিরের সমালোচনা করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ওপর ভরসা রাখি। আজ যাঁরা দলের প্রতিষ্ঠাতা বা মা-কেই চিনতে চাইছে না, তাঁদের কীই বা বলা যায়? আমি নতুন করে কোনো বিশেষণ যোগ করতে চাইছি না।”

‘কলঙ্কিত ইতিহাস’:
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, “কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? একুশে জুলাই আমরা সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি। যারা আজ এই প্রতীক নিয়ে দাবি করছে, তারা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সবথেকে কলঙ্কিত অধ্যায়।”

সাংসদ আরও যোগ করেন, “বাঙালি বেইমানকে কখনোই সহ্য করেনি। যাঁরা লোভী, তাদেরও সহ্য করেনি, আর করবেও না। রাজনৈতিক দিক থেকে এই গদ্দাররা আজ সারা বিশ্বের কাছে বাঙালির মাথা নিচু করে দিয়েছে।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
তৃণমূলের অন্দরের লড়াই এখন প্রতীক ও বৈধতা দখলের আইনি মোড় নিয়েছে। একদিকে মমতার কালীঘাট শিবির এবং অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে এই ‘কে আসল তৃণমূল’—সেই প্রশ্নের সমাধান এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া বয়ান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, মমতা শিবির কোনোভাবেই এই বিষয়টিকে হাল্কাভাবে নিচ্ছে না। কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া থেকে শুরু করে মাঠের রাজনীতিতে আক্রমণ—সব মিলিয়ে তৃণমূলের গৃহযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *