নির্দেশ অমান্য করার ফল! প্রশাসনের বুলডোজ়ারে গুঁড়িয়ে গেল বিশাল ক্যাফে, রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে

প্রশাসনের নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখানোর পরিণতি। মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে তৈরি বিশাল ক্যাফে গুঁড়িয়ে দিল জেলা প্রশাসন। অভিযুক্ত আর কেউ নয়, শাসকদলের নেতা শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের এই ক্যাফে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। আজ প্রশাসনের বুলডোজ়ার সেই বিতর্কিত নির্মাণের চিহ্ন মুছে দিল।
কী অভিযোগ ছিল?
স্থানীয় সূত্রে খবর, মাতলা নদীর পাড়ের সরকারি জমি দখল করে একটি বিশাল ক্যাফে তৈরি করেছিলেন ইমরান। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পর এই নির্মাণকে ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করা হয়। প্রশাসন দ্রুত ওই ক্যাফে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
কেন ভাঙতে হলো?
সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও শওকত মোল্লা বা তাঁর ছেলে ইমরান—কেউই তা মানতে চাননি। উল্টে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও সামনে আসছিল। চূড়ান্ত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো সদর্থক পদক্ষেপ না নেওয়ায়, আজ কড়া অবস্থানে যায় জেলা প্রশাসন।
বুলডোজ়ার অভিযান:
আজ প্রশাসনের আধিকারিক ও বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছায়। এরপরই শুরু হয় বুলডোজ়ারের তাণ্ডব। চোখের পলকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ওই সুদৃশ্য ক্যাফেটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে সরকারি জমি দখল করে দিনের পর দিন এই কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল?
রাজনৈতিক বিতর্ক:
এই অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, শওকত মোল্লার ছেলের এই বেআইনি কর্মকাণ্ডে মদত ছিল তৃণমূলের। প্রশাসনের এই বুলডোজ়ার অভিযান লোক দেখানো মাত্র কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। অন্যদিকে, এই ইস্যুতে আপাতত শওকত মোল্লা বা তাঁর পরিবারের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।