রাম মন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি: কেবল কর্মী নয়, ব্যাংকের অন্দরেই বড় চক্র! যোগসাজশে নাম জড়াল কর্মীদের

রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে ষড়যন্ত্রের ভয়াবহ সব স্তর। পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, কোটি কোটি টাকার এই কারচুপি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত চক্রের কাজ। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, ব্যাংক কর্মীদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এত দীর্ঘ সময় ধরে এই জালিয়াতি সম্ভব ছিল না।
সন্দেহের কেন্দ্রে দুই ব্যাংক কর্মী
মন্দিরের অনুদান গণনার দায়িত্ব ছিল স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) ওপর। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন দুই ব্যাংক কর্মী—রত্নেশ চতুর্বেদী ও গগনদীপ। পুলিশ ও এসআইটি-র তথ্য অনুযায়ী, অনুদান গণনা থেকে শুরু করে ব্যাংকে তহবিল জমা দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তাঁরা উপস্থিত থাকতেন। তদন্তে তাঁদের ভূমিকা এখন শুধু সন্দেহজনক নয়, বরং ‘সক্রিয়’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অযোধ্যা পুলিশ ইতিমধ্যেই এসবিআই ব্যাংকে অভিযান চালিয়েছে এবং এই দুই কর্মীকে নোটিশ পাঠিয়েছে।
চুরির অভিনব কৌশল
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অভিযুক্তদের কারচুপির অদ্ভুত পদ্ধতি। গণনার সময় অভিযুক্তরা ক্যামেরার সামনে নিজেদের সহযোগীদের নিয়ে একটি ‘বৃত্ত’ তৈরি করত, যাতে বাইরে থেকে টাকা সরানোর দৃশ্য ধরা না পড়ে। যদি কোনোদিন হাতেনাতে টাকা তোলা সম্ভব না হতো, তবে তারা গণনার রেজিস্টারে ৪-৫ লক্ষ টাকার ঘাটতি দেখিয়ে রাখত। পরে সেই একই পরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার সময় আত্মসাৎ করত।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকে ইঙ্গিত
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, শুধু নিচের স্তরের কর্মীরাই নয়, ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভূমিকাও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, তত্ত্বাবধায়ক কর্মীদের জ্ঞাতসারে এবং মদত ছাড়া এত বড় মাপের দুর্নীতি দিনের পর দিন চালানো অসম্ভব। ফলে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই মামলায় আরও বড় ধরনের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিলাসবহুল বাড়ির উৎস নিয়ে প্রশ্ন
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্রের সম্পত্তিও। অযোধ্যার শাহাদাতগঞ্জ এলাকায় লবকুশের একটি নবনির্মিত দোতলা বাড়ি স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে বাড়িটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, যা অবৈধ আয়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে মন্দির ট্রাস্ট ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এসআইটি এখন এই চুরির শিকড় কত গভীরে, তা খুঁজে বের করতে মরিয়া।