গুরু পূর্ণিমা ২০২৬: ২৮ নাকি ২৯ জুলাই? তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন, জেনে নিন সঠিক দিন ও পুজোর শুভক্ষণ

“গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু, গুরু দেবো মহেশ্বরঃ…”— সনাতন ধর্মে গুরুর আসন যে ঠিক কতটা উঁচুতে, তা এই মন্ত্রের মাঝেই স্পষ্ট। পরমেশ্বর আমাদের সৃষ্টি করলেও অন্ধকারের পথ থেকে আলোর দিশা দেখান একমাত্র গুরু। আর গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই বিশেষ উৎসব নিয়ে প্রতি বছরই ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে ব্যাপক উৎসাহ থাকে। তবে ২০২৬ সালে গুরু পূর্ণিমার সঠিক তারিখ নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় তৈরি হয়েছে। পুজো ও ব্রত পালনের সঠিক দিন কোনটা—২৮ জুলাই নাকি ২৯ জুলাই? পঞ্জিকা কী বলছে জেনে নিন।

হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২৮ জুলাই, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে। আর এই শুভ তিথি শেষ হচ্ছে ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৯ জুলাই, বুধবার রাত ৮টা ০৫ মিনিটে।

কোন দিনে পালিত হবে গুরু পূর্ণিমা?
যেহেতু ২৮ জুলাই সন্ধ্যার পর তিথি শুরু হচ্ছে, তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো পুজো-পার্বণ ও ব্রত পালনের ক্ষেত্রে ‘উদয়তিথি’ অর্থাৎ সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি থাকে, তাকেই বিশেষ মান্যতা দেওয়া হয়। সেই শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ২৯ জুলাই, বুধবার সকালে সূর্যোদয়ের সময় পূর্ণিমা তিথি সম্পূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকছে। সেই কারণে ২০২৬ সালের গুরু পূর্ণিমা পালিত হবে ২৯ জুলাই, বুধবারই।

স্নান ও দানের শুভক্ষণ
যাঁরা এই পবিত্র পূর্ণিমার লগ্নে কোনো পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নান ও দান-ধ্যান করতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য সবথেকে শ্রেষ্ঠ সময় হলো ব্রহ্ম মুহূর্ত। শাস্ত্রবিদদের মতে, ২৯ জুলাই ভোর ৪টে ১৭ মিনিট থেকে ভোর ৪টে ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে স্নান ও দানকর্ম সেরে ফেলা অত্যন্ত শুভ।

গুরু পূর্ণিমা ও ব্যাস পূর্ণিমার মাহাত্ম্য
সান্ত কবিরের সেই বিখ্যাত দোহার কথা তো সবারই জানা, যেখানে বলা হয়েছিল— ঈশ্বর এবং গুরু যদি একসঙ্গে সামনে এসে দাঁড়ান, তবে শিষ্য কার পায়ে আগে হাত দিয়ে প্রণাম করবে? কবিরের স্পষ্ট উত্তর ছিল, গুরুর চরণেই আগে মাথা নোয়াতে হবে। কারণ গুরু না থাকলে তো ভগবানকে চেনার বা বোঝার কোনো জ্ঞানই মানুষের হতো না। গুরুই শিষ্যের অন্তরে জ্ঞান ও ভক্তির প্রদীপ জ্বালিয়ে দেন।

এছাড়া মহর্ষি বেদব্যাসের (Maharishi Ved Vyas) জন্মতিথি স্মরণে এই বিশেষ দিনটিকে ব্যাস পূর্ণিমা হিসেবেও পালন করা হয়। তাই তারিখ নিয়ে যাবতীয় দ্বিমত ও সংশয় দূর করে আগামী ২৯ জুলাই বুধবার পূর্ণ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে গুরুদের আরাধনা করুন এবং তাঁদের আশীর্বাদ ধন্য হন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে পরিবেশিত সমস্ত তথ্য প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পঞ্জিকার গণনার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। জ্যোতিষ বা ধর্মীয় বিষয়ের এই বিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিবিশেষের ধারণার ওপর নির্ভরশীল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *