‘চোর-বেইমান’ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়! উত্তর কলকাতায় পড়ল ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার, নাম জড়াল কুণাল-তাপসের

জাতীয় রাজনীতি ও রাজ্য রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পালাবদলের গুঞ্জনের মধ্যেই এবার উত্তর কলকাতার রাজপথে তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্টার ঘিরে দানা বেঁধেছে চরম রাজনৈতিক বিতর্ক। মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার একাধিক ব্যস্ত এলাকায় তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ছবি দিয়ে আপত্তিকর ভাষা সংবলিত পোস্টার দেখা যায়।
কোথায় কোথায় দেখা গেল পোস্টার?
মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তর কলকাতার লেবুতলা এলাকা, তালতলা বাস স্টপ, বঙ্গবাসী কলেজ, এজেসি বোস কলেজ এবং ক্রিক রো-র মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই পোস্টারগুলি নজরে আসে। পথচলতি মানুষের নজর কাড়ে সেই পোস্টার, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পোস্টারে কী লেখা রয়েছে?
পোস্টারে উত্তর কলকাতার দীর্ঘসময়ের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে লেখা হয়েছে—
‘বেইমান আর চোর টা, নয়না দিদির বরটা।’ আর এই পোস্টারের একদম নিচে প্রচারে নাম হিসেবে লেখা রয়েছে ‘তাপস রায়’ এবং ‘কুণাল ঘোষ’-এর নাম।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও দুই নেতার প্রতিক্রিয়া
পোস্টারে নাম থাকা দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধায়ক তাপস রায়—এর সঙ্গে অতীতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মতবিরোধ বা দ্বন্দ্বের ইতিহাস কারও অজানা নয়। তৃণমূলে থাকাকালীন তাপস রায়ের সঙ্গে সুদীপের সম্পর্ক কখনই মধুর ছিল না, আর বর্তমানে তাপস বিজেপি শিবিরে। অন্যদিকে, একই দলে থেকেও কুণাল ঘোষের সঙ্গে সুদীপের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব বহুবার সামনে এসেছে। সুদীপের সম্ভাব্য শিবির বদলের গুঞ্জনের পরেও কুণাল তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই পোস্টারে এই দুই নেতার নাম থাকায় জল্পনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
তবে এই পোস্টারের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগ নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ ও তাপস রায় দুজনেই।
কুণাল ঘোষের বক্তব্য: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আরও অনেক কুণাল ঘোষ আছে। ওই পোস্টারে যার নাম আছে, সে আমি নই। তবে আমি ওই পোস্টারের সঙ্গে একমত। পোস্টারে যে ‘বেইমান’ লেখা হয়েছে, তার সঙ্গে আমি সহমত। অনেকেই সহমত হবেন।”
তাপস রায়ের বক্তব্য: এই পোস্টারের দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি জানান, “তাপস রায় নামের অনেক নেতাই আছেন। এই পোস্টারের সঙ্গে আমার দূরদূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই।” —
সংবাদ বিশ্লেষণ: > প্রধানমন্ত্রী ও হেভিওয়েট নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক এবং এনসিপিআই-এ সংযুক্তির পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই এই পোস্টার যুদ্ধ উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াল। কে বা কারা এই পোস্টারের নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।