খান স্যারের বিপদ বাড়ল! দেহরক্ষীদের অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য পুলিশের কেস ডায়েরিতে

বিহারের রাজধানী পাটনার নামী কোচিং সেন্টার ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ এবং ‘জ্ঞান বিন্দু’ কোচিং-এর মধ্যকার বিবাদ দিনে দিনে আরও জটিল আকার ধারণ করছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় নতুন কেস ডায়েরি সামনে আসার পর প্রখ্যাত শিক্ষক ফয়সাল খান (যিনি ‘খান স্যার’ নামে পরিচিত)-এর আইনি সমস্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
পুলিশের কেস ডায়েরিতে কী রয়েছে?
তদন্তকারী পুলিশের হালনাগাদ করা কেস ডায়েরি থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ২রা জুন যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল, তাতে ব্যবহৃত অস্ত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, ফয়সাল খানের দেহরক্ষী তালেবার সিং যে আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটির লাইসেন্স শুধুমাত্র উত্তর প্রদেশের জন্য বৈধ ছিল। বিহারে দায়িত্ব পালনকালে অস্ত্রটি বহনের জন্য কোনো অনুমতিপত্র তার কাছে ছিল না। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট থানাকেও এই বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ফলে বিহারের আইন অনুযায়ী ওই অস্ত্রটিকে ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ দ্বিতীয় দেহরক্ষীর বিরুদ্ধেও
বিবাদের সঙ্গে যুক্ত অপর দেহরক্ষী প্রদীপও আইনি গোলকধাঁধায় পড়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ব্যক্তিগত সুরক্ষার খাতিরে তিনি সারা দেশে অস্ত্র বহনের লাইসেন্স পেলেও, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থায় বাণিজ্যিক স্বার্থে সেই লাইসেন্স ব্যবহার করছিলেন। পুলিশের দাবি, এটি লাইসেন্সের স্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘন।
আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ শুনানি
পুলিশের এই নতুন ও শক্তিশালী কেস ডায়েরি আদালতে পেশ হওয়ার পরই ফয়সাল খান, তার দুই দেহরক্ষী (যারা বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন) এবং তিন কর্মী—কানহাইয়া, অজিত ও অঙ্কিত পান্ডের জামিনের আবেদন শুনানি হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, বিহারের আদালত ফয়সাল খান এবং তার তিন কর্মীর গ্রেপ্তারের ওপর ৩০শে জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। কিন্তু এখন মামলার মোড় যেদিকে ঘুরছে, তাতে আগামীকাল জামিন শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। খান স্যারের অনুরাগী এবং সংশ্লিষ্ট মহলের নজর এখন পাটনা আদালতের দিকে।