ফুটপাত দখলমুক্ত করার ডাক! যাদবপুরের হকার মার্কেটে ৭ দিনের উচ্ছেদ নোটিশ, তুঙ্গে বিক্ষোভ

বেআইনি দখলদারি হটিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ফুটপাত ও রাস্তা সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী করে তুলতে লাগাতার অভিযানের মধ্যেই এবার যাদবপুরের সুকান্ত সেতুর নিচে হকার্স মার্কেটে জারি হলো উচ্ছেদ নোটিশ। সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট হকারদের আগামী সাত দিনের মধ্যে দোকানপাট গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
কী ঘটেছে সুকান্ত সেতুতে?
রবিবার সকালে সুকান্ত সেতু হকার্স মার্কেটে হঠাৎই উচ্ছেদের নোটিশ সাঁটানো দেখা যায়। সেখানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে পুরো বাজার এলাকা খালি করে দিতে হবে। আচমকা এই নির্দেশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও হকারদের সঙ্গে আলোচনা করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কলকাতা পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীরা।
বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন হকাররা:
পুর আধিকারিক ও পুলিশদের দেখামাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় হকাররা। তাঁদের দাবি, নোটিশটিতে কোনো স্বাক্ষর ছিল না, অথচ পুরসভার আধিকারিকরা সরাসরি সাত দিনের ডেডলাইন দিয়েছেন। এই আকস্মিক নির্দেশে কয়েকশো হকার ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রশাসনের কর্তাদের ঘিরে সাময়িক বিক্ষোভও দেখান তাঁরা।
সরকারের নীতি ও হকারদের সংকট:
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য সরকার বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে বুলডোজার নামানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু যাদবপুরের এই ঘটনায় হকারদের রুজি-রোজগার ও পুনর্বাসনের প্রশ্নটি আবারও সামনে চলে এল।
প্রশাসনের দাবি, জনস্বার্থ ও যানজট নিরসনের জন্য এই উচ্ছেদ প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, হকারদের প্রশ্ন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়া হুট করে দোকান তুলে দিলে তাঁরা খাবেন কী? প্রশাসনের এই কঠোর নির্দেশিকা মেনে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, নাকি আন্দোলন আরও বড় আকার নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।