মায়ের দুধই কি শিশুর গভীর ঘুমের চাবিকাঠি? দীর্ঘদিনের ধারণা ভাঙল জাপানি গবেষণা!

সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে মায়েদের মনে সবথেকে বড় প্রশ্ন—মায়ের দুধ নাকি ফর্মুলা? প্রচলিত ধারণা ছিল, ফর্মুলা দুধ হজম হতে সময় বেশি লাগে, তাই তা খেলে শিশুরা দীর্ঘ সময় ঘুমায়। কিন্তু জাপানের টোয়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক বিশাল গবেষণায় এই দীর্ঘদিনের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। উল্টো, মায়ের দুধ পান করা শিশুদের ঘুম অনেক বেশি গভীর ও পর্যাপ্ত হয় বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।

৮২ হাজার শিশুর ওপর দীর্ঘ সমীক্ষা:
‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় জাপানের প্রায় ৮২,৯১৮ জন মা ও শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা মূলত জীবনের প্রথম ছয় মাস শিশুর খাদ্যাভ্যাস এবং এক বছর বয়সে তাদের ঘুমের ধরন—এই দুটির মধ্যে সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা করেছেন।

কী জানা গেল গবেষণায়?
গবেষণায় শিশুদের চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল:
১. শুধুমাত্র ফর্মুলা দুধ পানকারী।
২. ছয় মাসের কম সময় মায়ের দুধ পানকারী।
৩. ছয় মাস মায়ের দুধ ও ফর্মুলা উভয়ই পানকারী।
৪. ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ পানকারী।

ফলাফলে দেখা গেছে, যারা ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ পান করেছে, তাদের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

শুধুমাত্র ফর্মুলা: ১২.২ শতাংশ শিশুর ঘুমের ঘাটতি দেখা গেছে।

৬ মাস মায়ের দুধ (এক্সক্লুসিভ): মাত্র ৮.৮ শতাংশ শিশুর ঘুমের ঘাটতি ছিল।

সবকিছু যাচাই-বাছাই করে গবেষকরা দেখেছেন, যারা ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খেয়েছে, তাদের ঘুমের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা ফর্মুলা খাওয়া শিশুদের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম।

কেন এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ?
শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। অপর্যাপ্ত ঘুম ভবিষ্যতে শিশুর শারীরিক স্থূলতা, আচরণগত সমস্যা, শিখনের চ্যালেঞ্জ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ হতে পারে। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল সেইসব মায়েদের আশ্বস্ত করবে যারা উদ্বেগে থাকেন যে বুকের দুধ খাওয়ালে বুঝি শিশুর ঘুম কম হবে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
গবেষকরা অবশ্য বলছেন, এটি একটি পারস্পরিক সম্পর্ক (Association)। এর মানে এই নয় যে শুধু বুকের দুধই ঘুমের একমাত্র কারণ। একটি শিশুর ঘুমের ওপর পারিবারিক পরিবেশ, মায়ের স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন রুটিনও সমানভাবে প্রভাব ফেলে। তাই মাতৃত্বকালীন মানসিক শান্তি ও সুন্দর পরিবেশ শিশুর সার্বিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *