রেকর্ড গড়া সাফল্য: আইটিসি-র প্যাকেটজাত খাদ্য ব্যবসার আয় ২০ হাজার কোটি ছাড়াল!

ভারতের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্য সংস্থা আইটিসি (ITC) নতুন আর্থিক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY26) আইটিসি-র প্যাকেটজাত খাদ্য ব্যবসা প্রথমবারের মতো ২ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২০,৫০৪ কোটি টাকার রাজস্বের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এই খাতে কোম্পানির ১২% প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
খাদ্য ব্যবসার দুর্দান্ত উত্থান
কোম্পানির এফএমসিজি ব্র্যান্ডগুলিতে ভোক্তা ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৯% বেড়ে ৩৭,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রিমিয়াম ও উচ্চ-মার্জিনযুক্ত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি, জিএসটি-র সুবিধা এবং ভোক্তাদের কেনাকাটার ধরনে পরিবর্তনের কারণে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। লক্ষণীয় যে, ২০২৫ অর্থবর্ষে যেখানে খাদ্য ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ছিল ৬%, ২০২৬ অর্থবর্ষে তা দ্বিগুণ হয়ে ১২%-এ দাঁড়িয়েছে। আইটিসি-র সামগ্রিক এফএমসিজি ব্যবসায় খাদ্য খাতই এখন বৃহত্তম অবদানকারী।
কিছু খাতের ধীরগতি
খাদ্য ব্যবসা দুর্দান্ত সাফল্য পেলেও, আইটিসি-র অন্যান্য এফএমসিজি খাত—যেমন শিক্ষা ও স্টেশনারি, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, দেশলাই এবং ধূপকাঠি—মাত্র ২% প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে। এই খাতগুলোর মোট বিক্রয় দাঁড়িয়েছে ৩,৮১০ কোটি টাকায়। বিশেষ করে বছরের প্রথমার্ধে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছিল স্টেশনারি ব্যবসাকে, যদিও দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
মুনাফার চিত্র ও সিগারেটের কর নিয়ে উদ্বেগ
আইটিসি-র সামগ্রিক আর্থিক পারফরম্যান্সের ওপর নজর দিলে দেখা যায়:
মোট রাজস্ব: ১০% বৃদ্ধি পেয়ে ৮০,৮৬৭ কোটি টাকা হয়েছে।
নীট মুনাফা: ২০,২৮৬ কোটি টাকা (১%-এরও কম বৃদ্ধি)।
ইবিআইটিডিএ (EBITDA): ৪.৯% বৃদ্ধি পেয়ে ২৫,২০৮ কোটি টাকা।
আর্থিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সিগারেটের ওপর ক্রমাগত কর বৃদ্ধিকে কোম্পানি বড় ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। আইটিসি-র মতে, এই বর্ধিত কর অবৈধ সিগারেটের বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে পারে, যা কৃষক, খুচরা বিক্রেতা এবং সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও বৈধ সিগারেটের বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার ব্যাপারে কোম্পানি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।