পাঞ্জাব ভোটে ‘মন্দির’ মাস্টারস্ট্রোক কেজরিওয়ালের! অমৃতসরে লব-কুশ ও মাতা জানকীর বিশাল মন্দির তৈরির ঘোষণা

২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে আসরে নেমেছে আম আদমি পার্টি (আপ)। রবিবার অমৃতসরে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে আপ-এর জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান একসাথে পাঞ্জাবের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন।

লব-কুশ ও মাতা জানকীর মন্দির:
সাংবাদিক সম্মেলনে কেজরিওয়াল অমৃতসরে লব-কুশ এবং মাতা জানকীর নামে একটি বিশাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “অমৃতসর একটি পবিত্র ভূমি। এখানেই ভগবান বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছিলেন, সীতা মাতা এখানেই বাল্মীকি আশ্রমে ছিলেন এবং লব-কুশের জন্ম ও শিক্ষা এখানেই। তাই এখানে লব-কুশ ও মাতা জানকীর মন্দির নির্মাণ করা হবে।” এই প্রকল্পের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাম মন্দিরে ২০০ কোটির চুরি? বড় প্রশ্ন কেজরিওয়ালের:
রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার তদন্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেজরিওয়াল। তিনি অভিযোগ করেন, “গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কেবল ছোটখাটো অপরাধী। মূল মাস্টারমাইন্ডরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ২০০ কোটি টাকা চুরি হয়েছে বলে খবর, অথচ উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৮০ লক্ষ। বাকি টাকা কোথায় গেল, তার কোনো পুলিশি রিমান্ড চাওয়া হলো না কেন?” এই বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

আকাল তখত ও মুখ্যমন্ত্রী মান:
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান জানান, আগামী দিন আকাল তখত সাহিবে তাঁদের দলের স্পিকার, বিধায়ক এবং মন্ত্রীদের তলব করা হয়েছে। মান বলেন, “আকাল তখত সাহিবের নির্দেশ আমরা মাথা পেতে নেব।” নিজের একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আকাল তখতের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা পাঠাবেন। বিরোধীদের আক্রমণ করে মান বলেন, “আকালি দল, বিজেপি ও কংগ্রেস এই ধর্মীয় বিষয়কে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

রাজনীতি ও ধর্মের পার্থক্য:
মহারাষ্ট্রের নান্দেদ সাহিব ট্রাস্ট নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মান বলেন, “বিজেপি ধর্মীয় স্থানকে রাজনীতিকরণ করছে। ধর্ম ও রাজনীতিকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা উচিত। ধর্মীয় নেতাদের কাজ ধর্মীয় কর্মকাণ্ড দেখা, রাজনীতিকদের কাজ শাসন পরিচালনা করা।” পাতিয়ালার কালী মাতা মন্দিরের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সরকারি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ট্রাস্টিরা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তাঁরা কেবল মন্দিরের সেবায় নিয়োজিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *