বাগদান ভাঙলে সম্মানহানি! প্রেমিককে নিয়ে হবু বরকে খাদে ফেলে খুনের অভিযোগ বাগদত্তার, শিউরে ওঠা ঘটনা পুনেতে

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে উঠে এল এক বীভৎস পরিকল্পনার কাহিনী। পুলিশি তদন্তে অভিযোগ, সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে ঠান্ডা মাথায় কেতনকে হত্যা করেছে। রবিবার লোহগড় দুর্গে ঘটনার পুনর্গঠন (Crime Scene Reconstruction) করতে গিয়ে তদন্তকারীরা একের পর এক ভয়াবহ তথ্য উদ্ধার করেছেন।
কী ঘটেছিল লোহগড় দুর্গে?
১৮ জুন লোহগড় দুর্গে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার ছলে ২৬ বছর বয়সী কেতন আগরওয়ালকে গভীর খাদে ঠেলে ফেলে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। রবিবার সকালে অভিযুক্ত সিয়া গোয়ালকে সেই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে একটি ডামি বা ম্যানিকিন ব্যবহার করে পুলিশ যাচাই করে দেখে, কীভাবে এই অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছিল।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
পূর্বপরিকল্পনা: এটি কেবল হঠাত ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগে অভিযুক্তরা দুর্গের ওই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে খুনের মহড়াও দিয়েছিল। এমনকি ১৪ জুনও একবার কেতনকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
ইন্টারনেট সার্চ: পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের উপায় খুঁজে পেতে অভিযুক্তরা গুগল এবং ইউটিউবে বিভিন্ন ‘কিলিং মেথড’ নিয়ে বিস্তর অনুসন্ধান করেছিল। শেষ পর্যন্ত উঁচু প্রাচীর থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনাকেই তারা সবচেয়ে ‘সহজ’ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
উদ্দেশ্য: ধৃত সিয়া জেরায় জানিয়েছে, সে কেতনকে বিয়ে করতে চায়নি। কিন্তু বাগদান ভেঙে দিলে পারিবারিক সম্মানে আঘাত আসবে—এই ভয়েই সে প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে হবু বরকে খুনের চূড়ান্ত পথ বেছে নেয়।
প্রমাণের পাহাড়:
তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে ডিলিট করা মেসেজ, কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের দাবি, তাদের কাছে এখন খুনের পরিকল্পনার অকাট্য তথ্য রয়েছে। সিয়ার পাশাপাশি খুব শীঘ্রই অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীকেও ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে।
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির কঠোর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ এবং ক্ষমতার লোভে যে চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে, তা এখন পুনে তথা সারা দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।