বিয়ের পরিকল্পনার মাঝেই খুনের ছক! কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে সিয়া ও চেতনের ‘গোপন’ ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস?

ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সম্পর্কের সমীকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্র স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। এই ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী চেতন চৌধুরী বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

কে এই চেতন চৌধুরী?
রাজস্থানের যোধপুর জেলার বিলারা উপজেলার পালাশানি গ্রামের বাসিন্দা চেতন চৌধুরী। তাঁর বাবা বাবুলাল সিরভি পুনেতে মুদির ব্যবসা করেন। কোভিডকালীন ব্যবসায়িক মন্দার সময় বাবাকে সাহায্য করতে চেতন পুনেতে চলে আসেন। পরিবারের সঙ্গে পুনের কোন্ধওয়া এলাকায় বসবাসকারী চেতন স্নাতক ডিগ্রিধারী।

সিয়ার সাথে সম্পর্কের জাল:
পুলিশের দাবি, চেতন ও সিয়ার পরিচয় পুনেতেই। সম্পর্কের গভীরতা এতটাই ছিল যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চেতন সিয়াকে যোধপুরে নিয়ে যান এবং মেহরানগড় দুর্গ ঘুরিয়ে দেখান। এর আগে মে মাসে সিয়াও চেতনকে উদয়পুরের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনার কথা ছিল।

খুনের রাতের রহস্য:
তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ১৮ জুন ঘটনার দিন কেতন আগরওয়াল যখন সিয়াকে নিয়ে লোনাভালার লোহাগড় দুর্গে পৌঁছান, তখন চেতন আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে হুডি পরা যে যুবককে দেখা গেছে, সে চেতন চৌধুরী বলেই পুলিশের অনুমান। গ্রেপ্তার এড়াতে চেতন তাঁর মোবাইল ফোনটি কোন্ধওয়ার বাড়িতে রেখে এসেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ বনাম আসামিপক্ষ:

পুলিশের দাবি: চেতন জেরায় জানিয়েছে, তারা সিয়ার সঙ্গে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু সিয়া পারিবারিক সম্মানের দোহাই দিয়ে তাতে বাধা দেয়। এরপরই তারা কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

আসামিপক্ষের যুক্তি: চেতনের আইনজীবী রাম সাহানে পুলিশের সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, এফআইআর-এ চেতনের কোনো সরাসরি ভূমিকার উল্লেখ নেই। শুধুমাত্র সিয়ার প্রেমিক হওয়ার কারণেই তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং পুলিশ তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনো অকাট্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি:
সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী—উভয়কেই পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লোনাভালার ওই দুর্গম পাহাড়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই খুনের ব্লু-প্রিন্ট বোঝার চেষ্টা করছে।

কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের মোড় এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুনে পুলিশ ও নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *