রাম মন্দিরে ৩ কোটির দুর্নীতি: এফআইআর-এর অসম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে বাড়ছে রহস্য, তদন্তে কাদের আড়াল করার চেষ্টা?

রাম মন্দির চত্বরে পূজাপাত্র এবং আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় দায়ের করা এফআইআর নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। মন্দিরের ট্রাস্টের তরফ থেকে দায়ের করা এই প্রাথমিক নথিতে একাধিক গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ায়, সমগ্র তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

এফআইআর-এ মৌলিক তথ্যের অভাব
ট্রাস্ট সদস্য কৃষ্ণ মোহনের দায়ের করা এফআইআর-এ মোট ৮ জন কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন— অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, সুভাষ শ্রীবাস্তব, রামশঙ্কর মিশ্র এবং রামশঙ্কর যাদব (ওরফে তিনু)। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও, এফআইআর-এ তাদের বাবার নাম বা সম্পূর্ণ ঠিকানার মতো মৌলিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আইনজ্ঞদের মতে, একটি সরকারি নথিতে এই ধরনের গাফিলতি অভিযুক্তদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কোনো সুপরিকল্পিত কৌশল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের ইঙ্গিত ও রহস্যজনক নীরবতা
মামলাটিতে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন’ বা প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা স্পষ্ট করে যে এই দুর্নীতির সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংক আধিকারিকের যোগসূত্র রয়েছে। সূত্রের খবর, তদন্তে ব্যাংক কর্মীদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, এফআইআর-এ কারোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাদের পরিবর্তে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

একটি ‘প্রতিষ্ঠিত ছক’-এ লেখা এফআইআর?
নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এফআইআর-টি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং সুনির্দিষ্ট। এতে শুধুমাত্র এসআইটি (SIT) রিপোর্ট এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এফআইআর-এর প্রতিটি শব্দ যেন আগে থেকে তৈরি কোনো ছক বা নির্দেশ অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, যাতে মূল হোতাদের নাম আড়াল করা যায়।

৩ কোটি উদ্ধারের পর কি বাড়বে দুর্নীতির অঙ্ক?
এসআইটি গঠন হওয়ার আগেই ট্রাস্টের সন্দেহভাজন কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রায় ৩ কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জিজ্ঞাসাবাদের পরিধি বাড়লে এবং আরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ বহুগুণ বাড়তে পারে।

রাম মন্দিরের পবিত্রতাকে পুঁজি করে এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় এবং এফআইআর-এর অস্পষ্টতা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন সকলের নজর এসআইটি-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *