উদ্ধার হওয়া ৩ কেজি সোনা কার? জেরায় চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি সব্যসাচী দত্ত-ঘনিষ্ঠ টিনার

নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে অঢেল সম্পত্তির খোঁজ— অতীতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিকে তোলপাড় করেছিল। এবার সেই একই ধাঁচে নতুন চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহা। টিনার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিন কেজি সোনার মালিকানা নিয়ে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ সব্যসাচী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে নদীয়ার টিনা ভৌমিক সাহার বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় প্রায় তিন কেজি সোনা। পুলিশের জেরার মুখে টিনা ভৌমিক সাহা কার্যত স্বীকার করেছেন যে, এই বিপুল পরিমাণ সোনার মালিক আসলে সব্যসাচী দত্তই। যদিও সব্যসাচী দত্ত আগে থেকেই দাবি করে আসছেন, উদ্ধার হওয়া সোনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
কে এই টিনা ভৌমিক সাহা?
নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার উত্থান ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এখন প্রচুর প্রশ্ন উঠছে। ২০১৮ সাল থেকে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করা এই তৃণমূল নেত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন প্রয়াত বিধায়ক তাপস সাহা।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ঘনিষ্ঠতা
টিনার পরিবার মূলত বস্ত্র ব্যবসা ও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, পরবর্তী সময়ে তিনি লজ, ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল রাজনীতিতে মহুয়া মৈত্র বা তাপস সাহার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকলেও, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই দূরত্ব তৈরি হয়। এরপরই কলকাতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে, যার মধ্যে অন্যতম সব্যসাচী দত্ত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের দুজনকে একসঙ্গে দেখাও গেছে।
পার্থ-অর্পিতা পর্বের পর, সব্যসাচী-টিনা অধ্যায় রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি কতটা বাড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পুলিশের তদন্তে এই সোনা উদ্ধারের ঘটনা আরও কত গভীরে পৌঁছায়, তা নিয়ে নজর রয়েছে সব মহলের।