চাকরির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত! TMC পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি ঘেরাও জনতার

টাকা ফেরতের দাবিতে বৃহস্পতিবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা। মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য শ্যামল বর্মন ওরফে কমলাকান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার জেরে ভোগরামগুড়ি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের পাহাড়: ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০১৬ সালে রাজেন্দ্র সাহুসেনা নামে এক বেকার যুবকের কাছ থেকে প্রাথমিক স্কুলে চাকরি দেওয়ার নাম করে সাড়ে আট লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। চাকরি না মেলায় চাপের মুখে পড়ে ৪.৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিলেও, বাকি ৪ লক্ষ টাকা এখনও পাননি বলে অভিযোগ। শুধু চাকরি নয়, স্থানীয়দের একাংশের দাবি:
-
পারিবারিক জমি বিবাদ মিটিয়ে দেওয়ার নাম করে ৪ লক্ষ টাকা ও ৪০ হাজার টাকা করে হাতিয়েছেন অভিযুক্ত।
-
এলাকার রাস্তার কাজে বরাদ্দ পাথর আত্মসাতের মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিস্ফোরক পরিস্থিতি ও রাজনীতির রং: বিক্ষোভকারীদের একাংশের হাতে এই দিন বিজেপির পতাকা দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে মাথাভাঙ্গা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবারের সাফাই: অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ভিনরাজ্যে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী তাপসী বর্মনের দাবি, “এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা পুরো বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
কোচবিহারের বুকে শাসকদলের নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের এই সরব বিক্ষোভ পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক অস্বস্তি আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।