কোঁকরানো চুল সামলাতে গিয়ে রোজ নাজেহাল? হেয়ার স্টাইলিস্টদের এই জাদুকরী টোটকা না জানলে চরম ভুল করবেন!

কোঁকরানো বা কার্লি চুল দেখতে যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, এর পরিচর্যা করা এক প্রকার মুখের কথা নয়। একটু অবহেলা করলেই চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ, শুষ্ক ও জট পাকানো। চিরুনি চালালেই চুল ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা ফোলা ভাব (Frizzy hair) কিছুতেই কমতে চায় না। পার্লারে গিয়ে হাজার টাকা খরচ না করেও ঘরে বসেই এই অবাধ্য কোঁকরানো চুল খুব সহজে সুন্দর ও ম্যানেজেবল করে তোলা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্লি চুলের প্রধান সমস্যা হলো আর্দ্রতার অভাব। সঠিক নিয়ম মেনে চুলের যত্ন না নিলে চুল তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। কোঁকরানো চুল সুন্দর ও মোলায়েম রাখতে যে কার্যকরী নিয়মগুলি মেনে চলা জরুরি, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
ভেজা চুলে কন্ডিশনিং ও চিরুনির ব্যবহার: কার্লি চুল সবসময় শ্যাম্পু করার পর ভেজা অবস্থাতেই চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে জট ছাড়িয়ে নেওয়া উচিত। শুকিয়ে যাওয়ার পর চিরুনি চালালে চুল ভেঙে যায় এবং ফ্রিজিনেস বহুগুণ বেড়ে যায়।
সঠিক প্রোডাক্ট নির্বাচন: সালফেট ও প্যারাবিন মুক্ত শ্যাম্পু এবং বিশেষ করে কার্লি হেয়ারের জন্য তৈরি লিভ-ইন কন্ডিশনার বা ক্রিম ব্যবহার করুন। এটি চুলে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তোয়ালে ব্যবহারের ভুল: চুল মোছার জন্য সাধারণ খটখটে সুতির তোয়ালে ব্যবহার না করে মাইক্রোফাইবারের তোয়ালে বা সুতির পুরোনো টি-শার্ট ব্যবহার করুন। এটি চুলের কিউটিকল রক্ষা করে এবং চুল ফাসকে যাওয়া রোধ করে।
সিরাম বা হেয়ার অয়েলের সঠিক ব্যবহার: চুল পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগে হালকা কোনো হেয়ার সিরাম বা অর্গান অয়েল হাতের তালুতে ঘষে আলতোভাবে চুলে লাগিয়ে নিন। এটি কার্লি চুলকে সারা দিন সিল্কি ও সুন্দর রাখতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
সামান্য এই রুটিন বদল করলেই কোঁকরানো চুল সামলানো আপনার জন্য হয়ে উঠবে জলের মতো সহজ। আর জটহীন, বাউন্সি ও ঝলমলে কার্লি চুল নিয়ে আপনিও হয়ে উঠবেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু!