‘ও জামিন না পেলে পুনের হত্যাকাণ্ড ঘটতই না!’ কেতন মার্ডার কেসে বিস্ফোরক ইন্দোরের রঘুবংশী পরিবার, দুই খুনের ছক হুবহু এক?

পুনের বহুল চর্চিত ও নৃশংস কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড নিয়ে এবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করল ইন্দোরের বিখ্যাত পরিবহন ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর পরিবার। এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর চরমতম শাস্তির দাবি তুলে রঘুবংশী পরিবার জানিয়েছে, কানুন বা আইনি ব্যবস্থার ফাঁকফোকরই অপরাধীদের মনোবল দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রাজা রঘুবংশীর মা উমা রঘুবংশী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “অভিযুক্ত সোনম যদি জামিন না পেত, তবে পুনেতে কেতনের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটতই না। অপরাধীরা জানত যে খুনের পরও কিছুদিন জেল খেটে তারা ঠিক জামিনে খালাস পেয়ে যাবে! সোনমের জামিন পাওয়ার ঘটনাই সিয়া ও চেতনের সাহস বাড়িয়ে দিয়েছিল।” চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি আরও বলেন, “আমি কেতনের মায়ের কষ্টটা হুবহু অনুভব করতে পারছি। আমি নিজেও এই নরকযন্ত্রণা ভোগ করেছি। পুনের এই ঘটনা আমার বুকের পুরোনো ক্ষতকে আবার তাজা করে দিল।”
৪০০ ফুট গভীর খাদে জীবনের অবসান: দুই খুনের আশ্চর্য মিল!
রাজা রঘুবংশীর ভাই শচীন রঘুবংশী পুনে এবং ইন্দোরের এই দুটি হত্যাকাণ্ডের মোডাস অপারেন্ডি বা অপরাধের পদ্ধতির মধ্যে এক ভয়ঙ্কর ও হাড়হিম করা মিল খুঁজে পেয়েছেন।
প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা ও নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট
শচীনের মতে, দুটি মামলার ক্ষেত্রেই ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিল প্রেম, চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং ঠান্ডা মাথায় করা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ২০ দিন ধরে ৩টি বিফল চেষ্টার পর যেভাবে কেতন আগরওয়ালকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দিয়ে চিরতরে শেষ করে দেওয়া হলো, তা রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডেরই এক কালো প্রতিচ্ছবি। এই কারণেই পুরো রঘুবংশী পরিবার গভীর শোকে ভেঙে পড়েছে।
সোনমের জামিন নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন
শচীন রঘুবংশী সরাসরি আইনি ব্যবস্থার নমনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সোনম রঘুবংশীকে যেভাবে জামিন দেওয়া হয়েছিল, তাতে সমাজে একটা মারাত্মক ভুল ও নেতিবাচক বার্তা গেছে।
এই কারণেই পুনে হত্যা মামলার মাস্টারমাইন্ড সিয়া এবং তার বয়ফ্রেন্ড চেতন ধরে নিয়েছিল যে, ভারতের আইন অনুযায়ী হত্যার পর সামান্য কিছুদিনের জেল হেফাজত পেরিয়ে তারাও একদিন মুক্ত আকাশে ডানা মেলবে। এই আইনি শিথিলতার ভাবনাই সিয়াকে আরও বেপরোয়া করে তোলে এবং সে কেতনকে নির্মমভাবে সরাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি।
সমবেদনা জানাতে পুনে যাচ্ছে রঘুবংশী পরিবার
নিজেদের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এক মায়ের আকুলতা ঠিক কেমন হয়, তা খুব ভালো করেই জানে রঘুবংশী পরিবার। শচীন জানিয়েছেন, কেতনের পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে পাশে দাঁড়াতে এবং সমবেদনা জানাতে খুব শীঘ্রই তাঁরা পুনেতে কেতনের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন।
একই সঙ্গে, এই ধরনের নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের ফাঁসি বা কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে এই পরিবার, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘সিয়া’ বা ‘চেতন’ ভালোবাসার নামে কাউকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার সাহস না পায়।