১০০ বছরে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ! ধসে পড়ল একের পর এক বহুতল, কিন্তু আগেভাগেই কীভাবে টের পেল গুগল?

শত বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনিজুয়েলা। রিখটার স্কেলে যথাক্রমে ৭.১ এবং ৭.৫ মাত্রার এই দুটি ভয়াবহ কম্পনে হুড়মুড় করে ধসে পড়েছে একাধিক বহুতল ভবন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও আকাশছোঁয়া। কিন্তু এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও এক অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন লাখ লাখ মানুষ। কম্পন শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগেই তাঁদের স্মার্টফোনে চলে এসেছিল সতর্কবার্তা! আর এই আগাম সতর্কবার্তার সৌজন্যে বহু মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় চলে আসতে পেরেছেন, রক্ষা পেয়েছে বহু প্রাণ।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (টুইটার)-এ ড্যান নামের এক ভেনিজুয়েলার বাসিন্দা বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানতে চাই, মাটি কাঁপতে শুরু করার কয়েক সেকেন্ড আগেই গুগল কীভাবে বুঝতে পারল যে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আসছে?” শুধু ড্যানই নন, হাজার হাজার অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী এখন গুগলের এই অবিশ্বাস্য প্রযুক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
কীভাবে আপনার ফোন হয়ে উঠছে ‘ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র’?
প্রশ্ন জাগতেই পারে, সিসমোগ্রাফ বা বিশেষ কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই সাধারণ একটা মোবাইল ফোন কীভাবে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিচ্ছে? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আপনার হাতের স্মার্টফোনের ভেতরেই।
আজকের দিনে প্রতিটি আধুনিক স্মার্টফোনে একটি বিশেষ সেন্সর থাকে, যার নাম ‘অ্যাক্সেলেরোমিটার’ (Accelerometer)। সাধারণত এই সেন্সরটি আপনার ফোন সোজা থেকে ল্যান্ডস্কেপ মোডে ঘোরালে স্ক্রিনটিকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরিয়ে দিতে (অটো-রোটেট) সাহায্য করে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে আরেকটি অত্যন্ত শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক কাজ—এটি যেকোনো ধরনের সূক্ষ্ম কম্পন বা গতিবিধি নিখুঁতভাবে শনাক্ত এবং পরিমাপ করতে পারে।
যেভাবে কাজ করে গুগলের এই ‘সুরক্ষাকবচ’
যখনই কোনো এলাকায় ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ বা কম্পন শুরু হয়, তখনই ওই এলাকার অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর অ্যাক্সেলেরোমিটার সেন্সর তা ধরে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে ফোনটি ওই নির্দিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানসহ একটি সংকেত পাঠিয়ে দেয় গুগলের ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমে’ (Android Earthquake Alerts System)।
গুগলের কেন্দ্রীয় সার্ভার মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকার সমস্ত ফোনের ডেটা বা তথ্য বিশ্লেষণ করে। যদি দেখা যায় একই সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকার বিপুল সংখ্যক স্মার্টফোন একই ধরনের কম্পনের সংকেত পাঠাচ্ছে, তবে গুগল নিশ্চিত হয়ে যায় যে সেখানে বড় কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানতে চলেছে। যেহেতু আলোর গতিতে এই ডেটা আদান-প্রদান হয়, তাই মূল তীব্র কম্পন (S-wave) পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ড আগেই সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের ফোনে তীব্র অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটিরও (২ বিলিয়ন) বেশি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত, যা এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম বিকেন্দ্রীভূত সিসমোগ্রাফ সিস্টেমে পরিণত করেছে।
আপনার ফোনে এই অ্যালার্ট কীভাবে চালু করবেন?
নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থে এখনই আপনার ফোনে এই জীবনদায়ী ফিচারটি চালু আছে কিনা দেখে নিন:
অ্যান্ড্রয়েড (Android) ব্যবহারকারীদের জন্য: প্রথমে ফোনের Settings-এ যান। ওপরের সার্চ বারে লিখুন “Earthquake Alerts”। অপশনটি সামনে এলে সেটি ‘On’ বা চালু করা আছে কিনা পরীক্ষা করুন। বন্ধ থাকলে এখনই চালু করে দিন। (অথবা Settings > Safety & Emergency > Earthquake Alerts-এ গিয়েও এটি চালু করতে পারেন)।
আইফোন (iPhone) ব্যবহারকারীদের জন্য: ফোনের Settings-এ গিয়ে “Notifications” অপশনে ট্যাপ করুন। এবার একদম নিচে স্ক্রোল করে চলে যান। সেখানে “Government Alerts” বা “Emergency Alerts”-এর অধীনে থাকা সমস্ত অপশনগুলো অন বা চালু করে রাখুন।