ডাক্তারের চেয়ারে বসে এ কী কাণ্ড স্ত্রীর! সরকারি হাসপাতালে প্রেসক্রিপশন লিখছেন খোদ ‘মেমসাহেব’, হাতেনাতে ধরল জনতা

চিকিৎসার নামে সরকারি হাসপাতালে এ কেমন চরম গাফিলতি! খোদ সরকারি ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে তাঁর চেয়ারে বসে রমরমিয়ে রোগী দেখছেন তাঁর স্ত্রী। শুধু রোগী দেখাই নয়, গর্ভবতী মহিলাদের পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে ওষুধ বিতরণ—সবই করছেন তিনি। কর্ণাটকের বাগলকোট জেলার কালাদগি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই হাড়হিম করা ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রোগীদের জীবন নিয়ে এমন মারাত্মক ছিনিমিনির ঘটনা সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। (তথ্যসূত্র: Asianetnews Bangla)

ডাক্তারবাবু উধাও, প্রেসক্রিপশন লিখছেন ‘মেমসাহেব’!
অভিযোগের তির কালাদগি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার এইচ. ভি. লেবাগিরির দিকে। স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনও সরকারি পদে না থাকা সত্ত্বেও ডাক্তারের স্ত্রী প্রতিদিন নিয়ম করে হাসপাতালে আসেন। এরপর অবলীলায় স্বামীর চেয়ারে বসে চিকিৎসকের মতো রোগী পরীক্ষা করতে শুরু করেন। এমনকি সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদেরও তিনি চিকিৎসা ও ওষুধ দিচ্ছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোনও চিকিৎসাগত যোগ্যতা বা সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একজন ব্যক্তি এমন সংবেদনশীল কাজ করতে পারেন, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

হাতেনাতে ধরে জবাবদিহি, হাসপাতাল থেকে চম্পট স্ত্রীর
ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বুধবার স্থানীয় বাসিন্দারা আচমকাই দল বেঁধে ওই সরকারি হাসপাতালে চড়াও হন। ডাক্তারবাবুর চেয়ারে তাঁর স্ত্রীকে বসে থাকতে দেখে তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ডাক্তার লেবাগিরির কাছে এই অরাজকতার কড়া জবাবদিহি দাবি করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জনতা ও ডাক্তারের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি ও উত্তেজনা শুরু হয়। বেগতিক বুঝে ও গণধোলাইয়ের ভয়ে ডাক্তারের স্ত্রী তখন মোবাইল ফোনে কথা বলার ভান করে চুপিচুপি হাসপাতাল চত্বর থেকে চম্পট দেন।

অভিযোগ অস্বীকার ডাক্তারের, মুখে কুলুপ স্বাস্থ্য দপ্তরের
উত্তেজনা বাড়তেই সাফাই গাইতে ময়দানে নামেন অভিযুক্ত ডাক্তার এইচ. ভি. লেবাগিরি। তিনি দাবি করেন, রোগীদের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের হাতের লেখা তাঁর স্ত্রীর নয়। সমস্ত অভিযোগ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের ক্যামেরার সামনে তাঁর সেই যুক্তি টেকেনি।

বাসিন্দাদের বক্তব্য, গরিব মানুষ বুকভরা ভরসা নিয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন। সেখানে চিকিৎসকের এমন চরম অবহেলা ও রোগীর জীবন নিয়ে খেলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে এই গোটা কেলেঙ্কারি নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এই ঘটনা যে দেশের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি আরও একবার প্রকাশ করে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *