“ভারতেও চালু হোক পাকিস্তানের কুরআনি আইন!” এনসিপি বিধায়ক সানা মালিকের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় দেশ!

ভারতের বুকে পাকিস্তানের ‘কুরআনি আইন’ কার্যকরের পক্ষে সওয়াল! বহুবিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে এবার দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন মহারাষ্ট্রের এনসিপি (NCP) বিধায়ক সানা মালিক (Sana Malik)। তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।

সম্প্রতি একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সানা মালিক দাবি করেন:

“পাকিস্তানে কুরআনি আইন কার্যকর রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তার কিছু অংশ ভারতেও গ্রহণ করা উচিত। বহুবিবাহ বিভিন্ন ধর্মে প্রচলিত রয়েছে এবং কুরআনি আইনে যেহেতু এটি অনুমোদিত, তাই এটিকে ভারতেও আইনত স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।”

বিধায়কের যুক্তি, বহুবিবাহ শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মেই সীমাবদ্ধ নয়; হিন্দু, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মেও এর প্রচলন রয়েছে। তাই একে আইনি সিলমোহর দেওয়া উচিত। সানা মালিকের এই বক্তব্যকে অনেকেই ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’ বা ব্যক্তিগত আইনের পক্ষে একরোখা সওয়াল হিসেবে দেখছেন।

“এক দেশ, এক আইন!” ফুঁসে উঠল বিজেপি ও শিবসেনা
সানা মালিকের এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি, শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী) সহ একাধিক হিন্দু সংগঠন। এই বক্তব্যকে ‘ভারতীয় সংবিধান ও সমতার নীতির পরিপন্থী’ বলে দেগে দিয়েছে তারা।

বিজেপির এক শীর্ষ মুখপাত্র কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ভারতে এখন ‘এক দেশ, এক আইন’ (UCC) চালু করার সময় এসেছে। কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় আইনকে এখানে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই ধরনের বক্তব্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ছক।”

মুসলিম সমাজেই দ্বিমত: পক্ষে-বিপক্ষে জোর লড়াই
সানা মালিকের সমর্থনে বেশ কিছু মুসলিম সংগঠন ও রক্ষণশীল ব্যক্তি এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের দাবি, ভারতীয় সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে। তাই ব্যক্তিগত বিষয়ে ধর্মীয় আইন অনুসরণের অধিকার থাকা উচিত।

তবে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে একাধিক উদারপন্থী মুসলিম নারী সংগঠন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, বহুবিবাহ প্রথা নারীদের সম্মান ও অধিকারের পরিপন্থী এবং এটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

ভারতে বহুবিবাহ ও আইনি জটিলতা
ভারতে বহুবিবাহ নিয়ে আইনি অবস্থান বেশ জটিল এবং দীর্ঘদিনের বিতর্কের বিষয়।

হিন্দু বিবাহ আইন (১৯৫৫): এই আইন অনুযায়ী হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখদের মধ্যে বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

মুসলিম পার্সোনাল ল: এই আইনের অধীনে মুসলিম পুরুষদের বিশেষ শর্তসাপেক্ষে চারটি বিয়ে করার অনুমতি রয়েছে।

ইউসিসি (UCC): দেশের সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করার পরামর্শ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ডসহ ভারতের কিছু রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর হয়েছে, যা নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। আর তার মাঝেই সানা মালিকের এই মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালার কাজ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *