বিধানসভায় চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর! মমতাকে কটাক্ষ, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের হুঙ্কারে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন আজ সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত মুহূর্তের। তৃণমূল কংগ্রেস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, “এদের অধ্যায় এখানেই শেষ, তাঁরা আর ফিরতে পারবেন না।” একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত নেতাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সম্পত্তি নিলামের হুঁশিয়ারি: মমতা ও অভিষেকের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও, তাদের বাসভবন এলাকা নির্দিষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বিল আনছি যা সরকারকে হরিশ মুখার্জী রোড, হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিট এবং আমাতলায় রাজনীতিবিদদের সম্পত্তি নিলাম করার ক্ষমতা দেবে। সেই বিল খুব শীঘ্রই পাস হবে।” বিরোধী শিবিরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সরকারের সবচেয়ে কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: শুভেন্দু এদিন সরাসরি নাম ধরে শওকত মোল্লা এবং জাহাঙ্গীর খানকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি এদের কাউকে ছাড়ব না।” তবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও সমর মুখোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতাদের প্রতি তিনি ব্যক্তিগত সম্মান প্রদর্শন করেছেন। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশের ইস্যু তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা নিরাপদ ও শক্তিশালী করতে সরকার আপসহীন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০,০০০ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “এখনও সময় আছে পালিয়ে যান, কারণ ধরা পড়লে দেশের ভাষায় জবাব দেওয়া হবে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, সরকারি টাকায় অনুপ্রবেশকারীদের কোনো খাদ্য বা ওষুধ সরবরাহ করা হবে না।
মমতাকে ব্যক্তিগত কটাক্ষ: তৃণমূল জমানার ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয়ে শুভেন্দু বলেন, “আপনি নির্বাচনে হেরে গিয়ে পরাজয় স্বীকার করেছেন, কিন্তু আমি লড়াই ছাড়িনি। আজ দেখুন, আপনি বাড়িতে বসে আমার ভাষণ শুনছেন।” পাশাপাশি, তৃণমূলের অন্দরে চলা অস্বস্তি নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তিনি বিদ্রূপ করেন, “কোন তৃণমূলের জন্য লড়ছেন? যারা বিধায়কদের সাসপেন্ড করে, নাকি যারা দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দেয়?”
রাজনৈতিক আবহ: এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।