ভারত তিওয়ারি এনকাউন্টার: বিহারে অস্বস্তিতে সম্রাট চৌধুরী, কেন নিজের সরকারের বিরুদ্ধেই সরব এনডিএ নেতারা?

ভোজপুরে ভারত তিওয়ারির কথিত এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ বিহারের রাজনীতি। একদিকে বিরোধী শিবিরের তীব্র আক্রমণ, অন্যদিকে এনডিএ জোটের অন্দরের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এই ঘটনায় মুখে কুলুপ আঁটলেও, পরিস্থিতি এখন তাঁর সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

পুলিশের বয়ানে ঘেরাটোপ: ভোজপুরের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৬ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিহার পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালকও স্বীকার করেছেন যে, অভিযানে বড়সড় ‘ভুল’ হয়েছে। ভারত তিওয়ারির পরিবার এবং গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তবুও তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করা হয়েছে। যদিও পুলিশ নিজেদের অবস্থানে অনড়, কিন্তু ঘটনাস্থলের ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ পুলিশের বয়ানকে মিথ্যে প্রমাণ করার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণ: বিহারের রাজনীতিতে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় বিজেপির ঐতিহ্যবাহী ভোটার হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের জাতিভিত্তিক আদমশুমারি অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ব্রাহ্মণ রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, এই এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, তা এনডিএ সরকারের ভোটব্যাঙ্কে আঘাত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এনডিএ-র অনেক নেতাও এখন প্রকাশ্যেই ভারত তিওয়ারির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের সমালোচনা করছেন, যা সম্রাট চৌধুরীর জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্রাট চৌধুরীর অবস্থান: কিছুদিন আগেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। বলেছিলেন, অপরাধীদের শাস্তির জন্য দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত। কিন্তু ভোজপুরের ঘটনার পর সেই কড়া বার্তার সঙ্গে পুলিশের বর্তমান আচরণের আকাশ-পাতাল পার্থক্য তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি শেষ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলেও, তাতে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি।

কেন এই ইস্যু এত গুরুত্বপূর্ণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখন আর শুধুই একটি পুলিশি সংঘর্ষের ঘটনা নেই। এটি এখন ‘ভুয়ো এনকাউন্টার’, পুলিশের জবাবদিহিতা এবং জাতিগত রাজনীতির এক জটিল গোলকধাঁধায় পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা যেভাবে প্রচার পেয়েছে, তা বিহারের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যান্য রাজ্যের বিজেপির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।

ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় নয়, এটি সম্রাট চৌধুরীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিহারে এনডিএ-র স্বচ্ছ ভাবমূর্তির পরীক্ষার সম্মুখীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *