‘দিল্লি ওপারে পাঠাচ্ছি, থাকবে না কেউ!’ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বিধানসভায় গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং সীমান্ত সুরক্ষা ইস্যুতে বিধানসভায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য অনুপ্রবেশ আর বরদাস্ত করা হবে না।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? বিধানসভার মেঝেতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, “ইতিমধ্যেই ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ জন অপেক্ষায় রয়েছেন, যাঁদেরও ধাপে ধাপে সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা— “ডেলি ওপারে পাঠাচ্ছি। এখানে আর কেউ থাকবে না।”
অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সরকার ও করদাতাদের অর্থ: রাজ্যের অর্থ কোন খাতে খরচ হবে, তা নিয়েও এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যের করদাতাদের টাকা অন্নপূর্ণা যোজনা, সূর্যঘর প্রকল্প, বিধবা ভাতা বা বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যয় হবে। ওই অনুপ্রবেশকারীদের জেল বা খাওয়া-পরা খরচ চালাতে রাজ্যের কোষাগার ব্যবহার করা হবে না।”
নীতি কী? ‘ধরো এবং বিএসএফ-কে দাও’: মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ভারত সরকারের আইন কঠোরভাবে কার্যকর করছে। অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি হলো— “ধরো আর বিএসএফ (BSF)-কে দিয়ে দাও, নো জেল!” অর্থাৎ অনুপ্রবেশকারীদের আটকিয়ে রেখে দীর্ঘ আইনি জটিলতার বদলে সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়াই সরকারের মূল কৌশল। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-কে ১৪২ একর জমি হস্তান্তরের কথাও তিনি এদিন বিধানসভায় উল্লেখ করেন।
বৈধ নাগরিকদের জন্য অভয়বাণী: তবে এই কঠোর বার্তার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী দেশের বৈধ নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আপনি যে ধর্মের বা যে দলেরই হোন না কেন, যদি মনে-প্রাণে ভারতীয় হন, তবে আপনার দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই আইন কেবল অনুপ্রবেশকারীদের জন্য, প্রকৃত ভারতীয়দের জন্য নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আদতে রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে সরকারের নতুন কৌশলের এক স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।