মোরাদাবাদে যৌতুকের বলি অঞ্জলি! বিয়ের ৪ বছরের মাথায় বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে

উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের মাজহোলা থানা এলাকায় বিয়ের মাত্র চার-পাঁচ বছরের মাথায় অঞ্জলি নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের বাবার পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারের পর তাকে জোর করে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী রোহান ও তার শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে: কী ঘটেছিল?
মৃতার ভাই রোহিত জানিয়েছেন, প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে সামাজিক রীতিনীতি মেনে অঞ্জলির বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন মূল্যবান সামগ্রী ও নগদ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে।
রোহিতের অভিযোগ:
নিরন্তর অত্যাচার: অতিরিক্ত যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় অঞ্জলিকে প্রতিদিন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
বিষ প্রয়োগে হত্যা: শেষপর্যন্ত যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় আক্রোশ থেকে পরিকল্পিতভাবে অঞ্জলিকে বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই মাজহোলা থানার পুলিশ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভাই রোহিতের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত মামলা দায়ের করে এবং অভিযুক্ত স্বামী রোহান ও তার শ্বশুরকে আটক করে। মোরাদাবাদের পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুভাষ চন্দ্র গাঙ্গোয়ার জানান, মৃতদেহের ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট তৈরির পর তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকায় শোক ও ক্ষোভ
বিয়ের মাত্র চার-পাঁচ বছরের মাথায় এক তরুণীর এভাবে মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে একটি প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে মৃতের পরিবার ও এলাকাবাসী।