নিট-ইউজি ২০২৬: টেলিগ্রামের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল দিল্লি হাইকোর্ট, বড় ধাক্কা খেল অ্যাপ কর্তৃপক্ষ! ২. পরীক্ষায় জা

নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর পুনর্পরীক্ষাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি। প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার যে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, শুক্রবার তাতে পূর্ণ সায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি তেজস কারিয়ার সিঙ্গল বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারের এই পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত। ফলে আপাতত টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষের আর্জি খারিজ করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই বহাল রইল।

কেন এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা?
গত ৩ মে আয়োজিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় বড়সড় জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সিবিআই এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সুপারিশ অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MEITY) ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের অ্যাক্সেস স্থগিত রেখেছে। সরকারের উদ্বেগ, পুনর্পরীক্ষার সময় টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে জালিয়াত চক্র। এছাড়া ৩০ জুন পর্যন্ত পুরনো মেসেজ ‘এডিট’ করার অপশনও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে দুই পক্ষের লড়াই:

টেলিগ্রামের যুক্তি: আদালতের দ্বারস্থ হয়ে টেলিগ্রাম দাবি করেছিল, তাদের অযথা নিশানা করা হচ্ছে এবং সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তাদের আইনজীবীর দাবি, তারা ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশে ৯০০টিরও বেশি বেআইনি লিঙ্ক মুছে ফেলেছে এবং এআই ও মানব-নজরদারির মাধ্যমে জালিয়াতি আটকাচ্ছে।

কেন্দ্রের কড়া অবস্থান: আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, টেলিগ্রামের এমন একটি কাঠামো রয়েছে যেখানে অ্যাকাউন্ট ডিলিট করলে সমস্ত ডেটা মুছে যায়, যা অপরাধীদের ধরতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি আরও এক ধাপ এগিয়ে অ্যাপটিকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর কথায়, “টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম যখন সমানুপাতিকতার যুক্তি দেয়, তা ভিত্তিহীন। দেশের স্বার্থে এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অনিবার্য ছিল।”

সামগ্রিক প্রভাব:
বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর টেলিগ্রামের আর্জি খারিজ করে দেয়। আদালতের এই রায়ের ফলে ২২ জুন পর্যন্ত নিট-ইউজি পুনর্পরীক্ষা চলাকালীন টেলিগ্রাম অ্যাপটির ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকছে। প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা রুখতে কেন্দ্রের এই কড়া অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকরা।

এখন দেখার, এই নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকরীভাবে জালিয়াতি চক্রকে রুখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *