রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের! ইসলামাবাদকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ বলে তীব্র আক্রমণ

রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ফের একবার পাকিস্তানকে চরম অস্বস্তিতে ফেলল ভারত। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের প্ররোচনামূলক মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব অনুপমা সিং। এদিন তিনি পাকিস্তানকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুললেন ইসলামাবাদকে।

যা বললেন ভারতীয় কূটনীতিক:
রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার হাইকমিশনারের বার্ষিক প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা চলাকালীন পাক প্রতিনিধি কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে আনলে অনুপমা সিং পালটা আক্রমণে নামেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে। এখানে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হলো ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি। অবিলম্বে সেই জমি ভারতকে ফিরিয়ে দিতে হবে।”

‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ মন্তব্যের নেপথ্যে:
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি পুরনো বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে অনুপমা সিং বলেন, “পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যেখানে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ এবং মোতায়েন করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিজের লালনপালন করা সেই সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারাই আক্রান্ত হওয়ার পর পাকিস্তান নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে! এটি একটি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রাষ্ট্রের জীবন্ত উদাহরণ—যে নিজের তৈরি দানবের কামড় খেয়ে নিজেই চমকে ওঠে।”

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বেহাল দশা:
অনুপমা সিং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়েও সরব হন। তিনি উল্লেখ করেন, রাওয়ালকোটে সম্প্রতি যে ১১ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, তা আসলে ইসলামাবাদের দমনপীড়নেরই ফল। তিনি বলেন, “দশকের পর দশক ধরে সামরিক দখলদারি এবং জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার ফলে পরিস্থিতি আজ চরমে পৌঁছেছে। সেখানে সাধারণ মানুষ রুটি, বিদ্যুৎ ও মর্যাদার দাবি জানালে তাদের বুলেট দিয়ে দমন করা হচ্ছে।”

সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে বার্তা:
পাশাপাশি, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার উল্লেখ করে ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সিন্ধু জল চুক্তি এখন ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ এবং ‘অপ্রাসঙ্গিক’। মূলত, সন্ত্রাসবাদীদের প্রশ্রয় দেওয়ার কারণেই ভারত পাকিস্তানের সাথে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্থগিত রেখেছে।

বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই জোরালো অবস্থান ও কড়া বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ‘সন্ত্রাস-নীতির’ মুখোশ আরও একবার খুলে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *