বেকারত্ব দূর করতে বড় পদক্ষেপ! সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে মোটা অঙ্কের টাকা, জানুন আবেদনের নিয়ম

দেশের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামীকাল, ১৯শে জুন, বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘প্রধানমন্ত্রী বিকাশ ভারত রোজগার যোজনা’ (PM-VBRY)-এর আওতায় প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকার প্রণোদনা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত বছর ১লা আগস্ট চালু হওয়া এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি দেশের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে নতুন কর্মীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সাজানো হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন ও অন্যান্য খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই যোজনাটি শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

প্রকল্পটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
• প্রথমবার কর্মজীবনে প্রবেশকারী: যারা কর্মক্ষেত্রে নতুন যোগদান করছেন, তারা ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য।
• নিয়োগকর্তাদের জন্য সুবিধা: যে সমস্ত নিয়োগকর্তা অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করছেন, তারা প্রতিটি কর্মীর জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন।
• উৎপাদন খাতের বিশেষ গুরুত্ব: দেশের উৎপাদন খাতের প্রসারে এই খাতের নিয়োগকর্তাদের জন্য চার বছর মেয়াদী প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে অন্যান্য খাতের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ দুই বছর।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এই প্রকল্পের জন্য মোট ৯৯,৪৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, পরবর্তী দুই বছরে প্রায় ৩৫ মিলিয়নেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯২ লক্ষ এমন ব্যক্তি থাকবেন যারা প্রথমবারের মতো কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন। আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বিস্তার এবং কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের ওপর আর্থিক বোঝা কমিয়ে একটি শক্তিশালী ও উন্নত ভারত গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত তার যুবশক্তিকে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর, যা দেশের ভবিষ্যত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি স্থাপন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *