নিট পরীক্ষার আগে বড় ধাক্কা টেলিগ্রামের! ২২ জুন পর্যন্ত অ্যাপ নিষিদ্ধের নির্দেশ বহাল দিল্লি হাইকোর্টে

আগামী ২১শে জুন আয়োজিত হতে চলা নিট (NEET) পুনঃপরীক্ষাকে সামনে রেখে এক ঐতিহাসিক ও কড়া পদক্ষেপ নিল দিল্লি হাইকোর্ট। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২২শে জুন পর্যন্ত টেলিগ্রাম অ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা টেলিগ্রামের আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। বিচারপতি তেজস কারিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকার আইন মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারা এক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার টেলিগ্রামকে ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে যুক্তি দেন যে, এই প্ল্যাটফর্মটি এমনভাবে তৈরি যেখানে অপরাধীরা খুব সহজেই অবৈধ কার্যকলাপ চালাতে পারে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে তাদের ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় টেলিগ্রাম অ্যাপের অপব্যবহার যে বারবার উঠে এসেছে, সে বিষয়টিও আদালতে পেশ করে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের দাবি, জাতীয় স্বার্থে ও লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অপরিহার্য।
এদিকে, টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের প্রায় ১৫ কোটি ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এটি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৯ নং ধারার পরিপন্থী। আদালতের কাছে তাদের প্রশ্ন ছিল, কেন এই অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা হলো? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি বলেন, “আমাদের মতো জনবহুল দেশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আমরা কোথায় যেতাম? লাভের জন্য তৈরি প্ল্যাটফর্মগুলো আনুপাতিকতার নীতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না।”
শুধুমাত্র টেলিগ্রাম অ্যাপ নিষিদ্ধ করাই নয়, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আরও একটি আদেশে জানিয়েছে যে, আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের ‘এডিটিং ফিচার’ বা মেসেজ সম্পাদনার সুবিধাটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রাখতে হবে। নিট পুনঃপরীক্ষার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতের এই রায় পরিষ্কার করে দিল যে, পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষার ক্ষেত্রে যেকোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাবে। এখন ২১শে জুন নিট পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।