বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে কীভাবে চাষ করবেন ধান? কৃষি বিজ্ঞানীদের দেওয়া এই কৌশল বদলে দেবে ভাগ্য!

ঝাড়খণ্ডে বর্ষার আগমন ঘটলেও পালামুর পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকাটি মূলত বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের অন্তর্গত, ফলে প্রতি বছরই এখানে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়। চলতি বছরে এল নিনোর প্রভাবে সেই অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পালামুর কৃষকদের জন্য ধানের বাম্পার ফলন নিশ্চিত করা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সংকট থেকে মুক্তির উপায় বাতলে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। প্রচলিত চারা রোপণ পদ্ধতির পরিবর্তে ‘সরাসরি বীজ বপন’ (Direct Seeding) পদ্ধতি অবলম্বন করলে কম জল, কম খরচ এবং ন্যূনতম পরিশ্রমে কৃষকরা আশাতীত ফলন পেতে পারেন।
কৃষি বিজ্ঞানী ডঃ প্রমোদ কুমার এই আধুনিক পদ্ধতির খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা করে জানান, সরাসরি ধান বপনের জন্য নার্সারি বা চারাগাছ তৈরির কোনো প্রয়োজনই নেই। এতে কৃষকের সময় ও শ্রম দুই-ই বাঁচে। পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ: প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ করে কাদা তৈরি করতে হবে এবং নিষ্কাশনের জন্য সঠিক ব্যবস্থা রাখতে হবে। এরপর ধানের বীজ দুদিন জলে ভিজিয়ে রেখে অঙ্কুরিত করে নিতে হবে। একবার বীজ অঙ্কুরিত হয়ে গেলে ড্রাম সিডার বা সিড ড্রিল মেশিনের সাহায্যে প্রতি একরে ৬০ থেকে ৮০ কেজি বীজ বপন করলেই কাজ শেষ।
এই পদ্ধতির সাফল্যের জন্য জমি সমতল রাখা এবং অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়া অপরিহার্য। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার এতটাই কার্যকরী যে, মাত্র একদিনে তিন একর পর্যন্ত জমিতে অনায়াসেই বীজ বপন করা সম্ভব। প্রচলিত চারা রোপণ পদ্ধতিতে যেখানে এক হেক্টর জমিতে ধান লাগানোর জন্য প্রায় ৩০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, সেখানে সরাসরি বপন পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তিই একদিনে সেই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শ্রমসাশ্রয় হয় এবং হেক্টরপ্রতি ছয় থেকে আট হাজার টাকা খরচ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতিতে চারা রোপণ পদ্ধতির সমান ফলন পাওয়া যায়, বরং ফসল পাঁচ থেকে সাত দিন আগেই কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে। পালামুর মতো জলসংকটে থাকা এলাকার জন্য এই পদ্ধতিটি এক প্রকৃত আশীর্বাদ। কৃষি দপ্তর এই খরিফ মৌসুমে কৃষকদের এই লাভজনক পথ অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে জলবায়ুর প্রতিকূলতা কাটিয়েও কৃষকরা তাদের ফসলের সঠিক দাম ও ফলন পান।