করপোরেট চাকরি ছেড়ে আইএএস! পাটনার নতুন জেলাশাসক কুন্দন কুমারের সাফল্যের কাহিনী চমকে দেবে আপনাকে

বিহারের প্রশাসনিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। পাটনার নতুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আইএএস কর্মকর্তা কুন্দন কুমার। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনকল্যাণমুখী কাজের জন্য তিনি বিহারের আমলা মহলে অত্যন্ত সমাদৃত। মূলত মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা কুন্দন কুমার শুধুমাত্র একজন তুখোড় সরকারি কর্মকর্তাই নন, বরং তাঁর জীবনের গল্প যে কোনো মানুষের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
মুম্বইয়ের একটি নামকরা কর্পোরেট সংস্থায় পাঁচ বছর উচ্চপদে কাজ করার সময় তাঁর জীবন ছিল বিলাসবহুল। কিন্তু সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দেশের জন্য বড় কিছু করার অদম্য ইচ্ছা তাঁকে কর্পোরেট চাকরিতে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে। সিভিল সার্ভিসের স্বপ্নপূরণে ২০০৯ সালে তিনি প্রথমে আইপিএস হিসেবে নির্বাচিত হলেও, তিনি থেমে থাকেননি। নিজের লক্ষ্য পূরণে পুনরায় ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন এবং ২০১২ ব্যাচের আইএএস অফিসার হিসেবে নিজের স্বপ্ন সার্থক করেন।
কুন্দন কুমার তাঁর কর্মজীবনের প্রতিটি পদে উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। নালন্দা, বাঁকা, পশ্চিম চম্পারণ এবং পূর্ণিয়ার মতো জেলাগুলোতে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি এমন সব কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা আজ গোটা দেশের কাছে উদাহরণ। এই যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মানিত হয়েছেন।
বাঁকা জেলায় থাকাকালীন তাঁর ‘কৃষি অস্মিতা প্রকল্প’ কৃষকদের জীবনে নতুন আলো এনেছিল। প্রচলিত চাষাবাদের পাশাপাশি ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, বেবি কর্ন ও চিয়া বীজের মতো বাণিজ্যিক চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেন। একইভাবে পূর্ণিয়া জেলায় থাকাকালীন সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য তিনি চালু করেন লাইভ ডিজিটাল ক্লাস। পূর্ণিয়া ছাড়ার প্রাক্কালে তাঁর চালু করা ‘সুপার-৫০’ উদ্যোগ আজও মেধাবী পড়ুয়াদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, যেখানে আইআইটি এবং আইএএস কর্মকর্তারা সরাসরি তাঁদের মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন।
সবচেয়ে বড় সাফল্যের মুকুটটি এসেছিল পশ্চিম চম্পারণের বেতিয়া থেকে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় যখন লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন কুন্দন কুমার গড়ে তোলেন ‘চানপটিয়া স্টার্টআপ জোন’। ঘরে ফেরা শ্রমিকদের নিজস্ব কর্মসংস্থান ও শিল্প গড়ার সুযোগ করে দিয়ে তিনি যে নজির গড়েছিলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
পাটনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কুন্দন কুমারের নিয়োগে শহরজুড়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পাটনার মতো ভিআইপি এলাকায় যানজট, জলবদ্ধতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করাই তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি কি পারবেন পূর্ণিয়া বা বাঁকার মতো পাটনাতেও সাফল্যের একই চিত্রপট তৈরি করতে? প্রশাসনিক মহল এবং সাধারণ মানুষ এখন এক নতুন ভোর দেখার অপেক্ষায়।