বাংলাদেশ সীমান্তে পাক গুপ্তচর চক্রের রমরমা! কোচবিহার থেকে একসঙ্গে তিনজনকে পাকড়াও করল এসটিএফ

রাজ্যের মাটিতে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল আন্তঃরাষ্ট্রীয় গুপ্তচর চক্র। পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর জালে ধরা পড়ল তিন সন্দেহভাজন চর। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে কোচবিহারের দিনহাটা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার ধৃতদের দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

ধৃতদের পরিচয় ও অভিযানের নেপথ্য

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত তিনজনের নাম রশিদুল হক, নাসিরুদ্দিন মোল্লা ও সইফুল হক। এর মধ্যে রশিদুলের বাড়ি বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া দিনহাটার থরাইখানা গ্রামে। নাসিরুদ্দিনের বাড়ি তুফানগঞ্জ মহকুমা এলাকায় হলেও, সইফুল হকের মূল ঠিকানা নিয়ে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে; তবে তাঁর শ্বশুরবাড়ি উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর এলাকায় বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাতে এসটিএফ বাহিনী হঠাৎই রশিদুলের বাড়ি ঘিরে ফেলে ব্যাপক তল্লাশি চালায় এবং বাড়ি থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে। তবে এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশ বা এসটিএফের কোনো আধিকারিকই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে চাননি।

কী অভিযোগ রয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে?

এসটিএফের একটি গোপন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেশের গোপন তথ্য পাচারের কাজ চালাচ্ছিল। বিশেষ করে, ভারতীয় সিম কার্ড অবৈধভাবে সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাচার করা এবং বড় অঙ্কের জাল নোট কারবারের সঙ্গে এই তিনজন সরাসরি যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃতদের জেরা শুরু করেছে তদন্তকারীরা।

হাবড়ার রানার সঙ্গে কি কোনো যোগসূত্র?

সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব নামে এক ব্যক্তিকে আইএসআই চর সন্দেহে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও রেলের বিভিন্ন গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ধৃত রানার সঙ্গে দিনহাটার এই তিনজনের কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, রানাকে জেরা করেই এই নতুন চক্রের সন্ধান মিলে থাকতে পারে।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে রশিদুলের মা রুহিনা বিবির দাবি, তাঁর ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং সে কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে রাজমিস্ত্রির কাজ করার পর সে বছরখানেক আগে বাড়ি ফিরে এসেছিল। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে উত্তরবঙ্গ থেকে এত বড় একটি গুপ্তচর চক্রের সন্ধান মেলায় গোটা রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *