৪১ বছরে অবিশ্বাস্য তাণ্ডব! মেজর লিগ ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটে গদর ফাফ ডু প্লেসির, ভাঙলেন নিজেরই রেকর্ড!

মেজর লিগ ক্রিকেট (MLC 2026)-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই ক্রিকেট বিশ্ব সাক্ষী থাকল এক অবিশ্বাস্য রানের মহাকাব্যের। সিয়েটল ওর্কাস প্রথমে ব্যাট করে ২২০ রানের বিশাল পাহাড় গড়েছিল, যা দেখে মনে হয়েছিল জয়ের রাস্তা তাদের জন্যই পরিষ্কার। কিন্তু মাঠের লড়াই যখন শেষ হলো, তখন দেখা গেল এক নতুন ইতিহাস। সিয়েটল ওর্কাসের সেই বিশাল স্কোরকে অবলীলায় তুড়ি মেরে উড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিল টেক্সাস সুপার কিংস। এই ঐতিহাসিক জয়ের একক নেপথ্য কারিগর আর কেউ নন, স্বয়ং অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। ৪১ বছর বয়সেও তার ব্যাটের তেজ যেন তরুণদের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২২১ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টেক্সাস সুপার কিংসের শুরুটা ছিল উড়ন্ত। অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি যেন আজ এক ভিন্ন মেজাজে ছিলেন। সিয়েটল ওর্কাসের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালিয়ে তিনি মাঠের প্রতিটি কোণায় বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির বৃষ্টি ঝরালেন। মাত্র ৪৫ বলেই তিনি পূর্ণ করেন তার বিধ্বংসী শতরান। অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে তিনি মোট ৫২টি বল মোকাবিলা করে ১১৩ রানের এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন। তার এই রূপকথার মতো ইনিংসের সুবাদেই টেক্সাস সুপার কিংস ১৮.৩ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
এই ম্যাচের সময় ফাফ ডু প্লেসির বয়স ছিল ৪১ বছর ৩৪১ দিন। নিজের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন যে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। বিশ্বের যেকোনো টি-টোয়েন্টি লিগের ইতিহাসে শতক হাঁকানো সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার এখন তিনিই। এর আগে গত মরসুমে ৪০ বছর বয়সে শতরান করে এই রেকর্ডটি তিনিই গড়েছিলেন, যা এবার নিজেই ভেঙে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। শুধু তাই নয়, ৪০ বছরের বেশি বয়সে দুটি টি-টোয়েন্টি লিগ সেঞ্চুরি হাঁকানো প্রথম ব্যাটার হিসেবেও নাম লেখালেন তিনি।
মেজর লিগ ক্রিকেট (MLC)-এর ইতিহাসে ফাফ ডু প্লেসির আধিপত্য এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এই লিগে তিনি প্রথম এবং একমাত্র ব্যাটার হিসেবে মোট ৪টি শতরান করার রেকর্ড গড়লেন। টুর্নামেন্টের ২৬টি ইনিংসে ৪৩.৬২ গড়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন ১০৪৭ রান। যার মধ্যে ৪টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ৬টি হাফ-সেঞ্চুরি। ১৬৭.২৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে তিনি যে আগ্রাসন দেখিয়েছেন, তা আগামী দিনগুলোতে বিপক্ষ বোলারদের জন্য এক বিরাট আতঙ্কের কারণ হয়ে থাকবে। ফাফের এই ঐতিহাসিক ইনিংস কেবল টেক্সাস সুপার কিংসকেই জয় এনে দেয়নি, বরং ক্রিকেট ভক্তদের উপহার দিয়েছে এক চিরস্মরণীয় সন্ধ্যা।